তেজষ্ক্রিয় বর্জ্যযুক্ত জাহাজ এমটি প্রডিওসারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আদেশ

মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে তেজষ্ক্রিয়তা এবং অন্যান্য বিষাক্ত বর্জ্যবাহী জাহাজ এমটি প্রডিওসার (নর্থ সি প্রডিওসার)-কে আমদানী, সৈকতায়ন এবং ভাঙার অনুমতি দেয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-র দায়েরকৃত এক জনস্বার্থমূলক মামলায় (রীট মামলা নং ৮৪৬৬/২০১৭) মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ আজ (৮ জুন, ২০১৭) জাহাজটির তেজষ্ক্রিয়তা বিষয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কাস্টমস্ এর মেগাপোর্ট ইনিসিয়েটিভ এই প্রতিষ্ঠান তিনটির রিপোর্ট আগামী ১০ সপ্তাহের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেছেন। একইসাথে আদালত আমদানীকারকসহ জাহাজের মামলার ১৮ জন বিবাদীকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে ৫১ কোটি ৮২ লক্ষ ৭৭ হাহার ৫৭০ টাকায় জনতা স্টীল মিল (শীপ ব্রেক্ংি ইয়ার্ড) কর্তৃক সর্ববৃহৎ ড্যানিশ শিপিং কোম্পানী মার্কস হতে ক্রয়কৃত জাহাজ এমটি প্রডিওসারের অনুকূলে প্রদত্ত ছাড়পত্র কেন বেআইনী ঘোষণা করা হবেনা এবং কেন মিথ্যা ঘোষণা দেয়ার কারণে বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা সে মর্মে ৩ সপ্তাহের মধ্যে কারণদর্শাতে বিবাদীগণকে নির্দেশ দিয়েছেন। উপরন্তু সৈকতায়নকৃত বিষাক্ত জাহাজটির নিরাপদ ভাঙা নিশ্চিত করতে আমদানীকরকের খরচে কেন নিরপেক্ষ বিদেশী বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হবেনা সে মর্মে কারণদর্শানো নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এবং বিচারপতি মো: সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ রুল ও নির্দেশনা প্রদান করেন।
মামলার বিবাদীগণ হলেন-
সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়; সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়; সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ; জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম; মহাপরিচালক, কোস্ট গার্ড; কালেক্টর অব কাস্টমস্, বাংলাদেশ কাস্টমস; চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ; প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক, বিস্ফোরক অধিদপ্তর; মহাপরিদর্শক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর; পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; প্রিন্সিপাল অফিসার, মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট; সভাপতি, বাংলাদেশ শীপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশন; স্বত্তাধিকারী, জনতা স্টীল কর্পোরেশন (শীপব্রেকিং ইয়ার্ড); ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেসার্স এইচ আর শীপ ম্যানেজমেন্ট লিঃ (সেইফটি এজেন্সি)।
উল্লেখ্য দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের আদেশ অমান্য করে জনতা স্টীল মিল (শীপ ব্রেক্ংি ইয়ার্ড) তেজষ্ক্রিয়তাযুক্ত বিষাক্ত বর্জ্যবাহী এমটি প্রডিওসার (নর্থ সি প্রডিওসার, আইএমও নম্বর ৯১২৪০৫৮) নামক জাহাজটি আমদানী করে এবং ভাঙার কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে জাহাজটির বিষাক্ততার বিষয়ে এবং জাহাজটি ভাঙার ক্ষেত্রে জনতা স্টীল মিল (শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ড)-এর সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত থাকার বিষয়ে শীর্ষস্থানীয় ড্যানিশ গণমাধ্যম ড্যানওয়াচ ও স্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বেলা বিষয়টি নিয়ে আইনী কার্যক্রম শুরু করে। বেলার গবেষণায় প্রতীয়মান হয় যে বর্জ্য বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাহাজটি আমদানী করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে অত্যন্ত দায়সারাভাবে জাহাজটি সম্পূর্ণ পরীক্ষা না করেই পরিবেশ অধিদপ্তর জাহাজটি সৈকতায়নের সুপারিশ করে। পরবর্তীতে বিশেষ বিবেচনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং শিল্প মন্ত্রলালয় জাহাজটি সৈকতায়নের অনুমতি দেয়। জাহাজটি ভাঙা শুরু হলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সে প্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তর দ্বিতীয় কমিটি গঠন করলে সে কমিটি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কাস্টমস্ এর মেগাপোর্ট ইনিসিয়েটিভ-এর প্রতিবেদন আহান করে। দেশে বিশেষজ্ঞ না থাকার সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কাস্টমস্ এর মেগাপোর্ট ইনিসিয়েটিভ জাহাজটির বর্জ্যরে পরিমাণ নিরুপণে এবং ভাঙার ক্ষেত্রে বিদেশী বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পরামর্শ রাখলেও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত দ্বিতীয় কমিটি তা উপেক্ষা করে আমদানীকারকের মাধ্যমেই জাহাজটি বর্জ্যমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিলে বেলা জনস্বার্থমূলক মামলাটি দায়ের করে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে জনতা স্টীল মিল (শীপ ব্রেক্ংি ইয়ার্ড)-এ দুর্ঘটনার ফলে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও এই ইয়ার্ডের স্বপক্ষে পরিবশগত ছাড়পত্র নবায়নের বিরুদ্ধেও বেলা আদালতে প্রতিকার চেয়েছে।
বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেছেন সিনিয়র আইনজীবী জনাব ফিদা এম কামাল এবং তাঁকে সহায়তা করেন বেলার আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও সাঈদ আহমেদ কবীর।
আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন-

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
প্রধান নির্বাহী, বেলা।
তারিখ: ৮ জুন, ২০১৭
মোবাইল: ০১৭১১৫২৬০৬৬

 

 

 

 

 

আজ (১৭ মে, ২০১৭) বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) বিদ্যমান The Ship Breaking & Recycling Rule, 2011 এবং বিপজ্জনক বর্জ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১১-এর দ্বৈততা পরিহার করে এবং এই দুটি বিধিমালাসহ আমদানী নীতি আদেশ ২০১৫-২০১৮ এ জাহাজ আমদানী, বিচিং, ভাঙা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আদালতের নির্দেশের সাথে সামঞ্জস্যতা আনয়নে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়নের দাবিতে আইনী নোটিশ প্রেরণ করেছে। একইসাথে এ নোটিশের মাধ্যমে বেলা কর্তৃক আদালতের আদেশ ও বিদ্যমান বিধিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে আমদানীকৃত বর্জ্যবাহী নর্থ সি প্রডিউসার (বর্তমান নাম এমটি প্রডিউসার) নামক জাহাজটিতে বিদ্যমান তেজষ্ক্রিয়তাযুক্ত পদার্থের পরিমাণ নির্ধারণ ও তার নিরাপদ অপসারণে অবিলম্বে নিরপেক্ষ এবং বিদেশী বিশেষজ্ঞ নিয়োগ এবং (৩) জাহাজটির স্বপক্ষে ঘঙঈ, বিচিং অনুমোদন ও ভাঙার অনুমোদন প্রদানকারী কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিশ গ্রহীতাগণ হলেন- সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়; সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়; সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন; মহাপরিচালক, কোস্ট গার্ড; প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক, বিস্ফোরক অধিদপ্তর; মহাপরিদর্শক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর; জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম; কালেক্টর অব কাস্টমস্, বাংলাদেশ কাস্টমস; চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ; পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; প্রিন্সিপাল অফিসার, মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট; ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেসার্স এইচ আর শীপ ম্যানেজমেন্ট লিঃ (সেইফটি এজেন্সি), সভাপতি, বাংলাদেশ শীপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশন, স্বত্তাধিকারী, জনতা স্টীল কর্পোরেশন (শীপব্রেকিং ইয়ার্ড)।
উল্লেখ্য, দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের আদেশ অমান্য করে জনতা স্টীল কর্পোরেশন (শীপব্রেকিং ইয়ার্ড) তেজষ্ক্রিয়তাযুক্ত বিষাক্ত বর্জ্যবাহী নর্থ সি প্রডিউসার(বর্তমান নাম এমটি প্রডিউসার, আইএমও নম্বর ৮১২৪০৫৮) নামক একটি জাহাজ আমদানী করে এবং ভাঙার কার্যক্রম শুরু করে। প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে আমদানীকৃত এ জাহাজটিতে তেজষ্ক্রিয়তাযুক্ত বর্জ্যসহ অন্যান্য ক্ষতিকর বর্জ্য থাকা সত্তেͦও মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ লংঘন করে ও দেশের বিদ্যমান আইনী বিধি-বিধান উপেক্ষা করে জাহাজটি আমদানীর স্বপক্ষে ঘঙঈ (ঘড় ঙনলবপঃরড়হ ঈবৎঃরভরপধঃব), বিচিং ও ভাঙার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায় দেশের ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কাস্টম্স এর মেগাপোর্ট ইনিসিয়েটিভ কর্তৃপক্ষ এ জাহাজটিতে বিদ্যমান তেজষ্ক্রিয় বর্জ্যের পরিমাণ নির্ধারণে ও তা অপসারণে বিদেশী বিশেষজ্ঞের শরনাপন্ন হতে সুপারিশ প্রদান করেছে।

ইতোপূর্বে বেলা কর্তৃক দায়েরকৃত এক জনস্বার্থমূলক মামলায় (নং ৭২৬০/২০০৮) গত ৫ ও ১৭ মার্চ, ২০০৯ তারিখে প্রদত্ত আদালতের নির্দেশের প্রেক্ষিতে ঞযব ঝযরঢ় ইৎবধশরহম ্ জবপুপষরহম জঁষব, ২০১১ এবং বিপজ্জনক বর্জ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১১ শীর্ষক দুইটি সাংঘর্ষিক এবং দুর্বল বিধিমালা প্রণীত হয় যা জাহাজ আমদানী, ভাঙা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আদালতের আদেশের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একইসাথে আমদানী নীতি আদেশ, ২০১৫-২০১৮-এর অনুচ্ছেদ ২৬(খ) (৩৯) জাহাজ আমদানী সংক্রান্ত আদালতের আদেশের সাথে সাংঘর্ষিক। মূলত এ সকল সাংঘর্ষিক বিধি বিধানের কারণে নর্থ সি প্রডিউসার(বর্তমান নাম এমটি প্রডিউসার)-এর মতো বিষাক্ত বর্জ্যবাহী জাহাজ হরহামেশাই দেশে প্রবেশ করছে এবং উপকূলীয় পরিবেশ এবং শ্রমিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মারাত্মকভাবে বিঘিত হচ্ছে।

আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন-

এ এম এম মামুন
বেলা।
তারিখ: ১৭ মে, ২০১৭
মোবাইল: ০১৯১৯৮০৪০০০

 

 

 

ভোলা খাল রক্ষায় প্রদত্ত আদালতের নির্দেশ পালনে ব্যর্থতায় আদালত অবমাননার রুল জারি

আজ (৪ এপ্রিল, ২০১৭) বিচারপতি মো: আশফাকুল ইসলাম এবং বিচারপতি জনাব আশীষ রঞ্জন দাস এর সমন্বয়ে গঠিত মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ভোলা খাল রক্ষায় প্রদত্ত আদালতের নির্দেশ পালনে ব্যর্থতায় কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না মর্মে ৪ (চার) সপ্তাহের রুল জারি করেন।

উল্লেখ্য যে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ভোলা জেলার সদর উপজেলার চরজংলা মৌজার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ভোলা খাল থেকে অবৈধ দখল ও দূষণ রোধ এবং সি.এস ম্যাপ অনুযায়ী ভোলা খালের সীমানা চিহ্নিত করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে একটি রীট মামলা (নং ৩৯২৪/২০১৫) দায়ের করে। গত ৪ঠা মে, ২০১৫ তারিখে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জনাব মির্জা হোসেন হায়দার এবং বিচারপতি জনাব

এ.কে.এম.জাহিরুল হক সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ ভোলা খাল থেকে অবৈধ দখল ও দূষণ রোধ এবং ভোলা খালকে তার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কেন গ্রহণ করা হবে না-এই মর্মে বিবাদীগণের ওপর রুল নিশি জারি করেন। এছাড়াও ভোলা খালের ওপর থেকে সকল প্রকার অবৈধ থাপনা অপসারণ করে পরিবেশগত ব্যবথাপনা পরিকল্পনা (্্্্্্্্্্্্্্্্্ইএমপি) এবং কমপ্লায়েন্স রিপোর্টও চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন মহামান্য আদালত।

সম্প্রতি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, এখনও ভোলা খালের দখল ও দূষণ বন্ধ হয়নি এবং খালটি খনন না করায় খালের প্রায় ৮ (আট) কিলোমিটারে কোনো ধরনের নৌকা চলাচল করতে পারে না। এছাড়াও, খালের ওপর স্থাপিত কালভার্ট ও সুইসগেট খালে পানির প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট থেকে সৃষ্ট আবর্জনা খালকে ক্রমান্বয়ে দূষিত করে চলেছে। এর প্রেক্ষিতে বেলা আদালত অবমানানর মামলা দায়ের করলে মহামান্য হাইকোর্ট আজ এ রুল জারি করেন।
মামলার বিবাদীগণ হলেন- সচিব, ভূমি মন্ত্রনালয়; ভারপ্রাপ্ত সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়; সচিব, মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রনালয়; সিনিয়র সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়; চেয়ারম্যান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন; মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; মহাপরিচালক, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষ (বিআইডবিউটিএ); জেলা প্রশাসক, ভোলা; পুলিশ সুপার, ভোলা; পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর (বরিশাল); উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ভোলা; মেয়র, ভোলা পৌরসভা; সহকারি কমিশনার (ভমি), ভোলা।
বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বেলার আইনজীবী আলী মোস্তফা খান।
আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন

আলী মোস্তফা খান
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৯২৮৩১৯
তারিখ: ৪ এপ্রিল, ২০১৭

 

 

 

আজ (২১ মার্চ, ২০১৭) বিচারপতি মো: আশফাকুল ইসলাম এবং বিচারপতি জনাব আশীষ রঞ্জন দাস এর সমন্বয়ে গঠিত মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ আদালত অবমাননার মামলা (নং ১২০/২০১৭) শুনানী অন্তে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সেন্ট মার্টিন দ্বীপ সংরক্ষণ না করার অভিযোগে বিবাদীগণের উপর আদালত অবমাননার রুল জারি করেন। এ রুলের মাধ্যমে আদালত গত ২৪ অক্টোবর, ২০১১ তারিখে ৬৮৪৮/২০০৯ জনস্বার্থমূলক মামলায় প্রদত্ত নির্দেশ অনুযায়ী সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া গড়ে ওঠা সকল স্থাপনা ভেঙ্গে না ফেলায়; ভবিষ্যতে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কোন স্থাপনা গড়ে উঠতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায়; কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক, কচ্ছপসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায়; এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী শাস্তি প্রদান না করায় কেন বিবাদীগণের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না তার কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করেন। একইসাথে আদালতের নির্দেশ যথাযথ পালন না করায় কেন তাদেরকে স্বশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করা হবে না তাও জানতে চেয়েছেন মহামান্য আদালত।
প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষিত বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে রক্ষার স্বার্থে অবৈধভাবে নির্মিত সকল হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও অন্যান্য বাণিজ্যিক স্থাপনা অপসারণ এবং প্রবাল, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক, কচ্ছপ অন্যান্য জলজ প্রাণীর অনিয়ন্ত্রিত আহরণ বন্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ২০০৯ সালে একটি জনস্বার্থমূলক মামলা (নং ৬৮৪৮/২০০৯) দায়ের করে। মামলার চূড়ান্ত শুনানী শেষে গত ২৪ অক্টোবর, ২০১১ তারিখে আদালত সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া গড়ে ওঠা সকল স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলতে; ভবিষ্যতে যেন পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কোন স্থাপনা গড়ে উঠতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে; কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক, কচ্ছপসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন। সেইসাথে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী শাস্তি প্রদানের ও নির্দেশ প্রদান করেন উচ্চ আদালত।
আদালতের এহেন সুষ্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্তেও সেন্ট মার্টিন প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন গড়ে উঠেছে প্রায় ১০৬টি হোটেল, মোটেলসহ নানা স্থাপনা। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সৌন্দর্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের অব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন ও বেলার সরেজমিন পরিদর্শনের উপর ভিত্তি করে উল্লেখিত আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করলে আদালত উল্লেখিত রুল জারি করেন।
মামলার বিবাদীগণ – সচিব (ভারপ্রাপ্ত), পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়; সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়; সচিব, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়; সচিব, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন; মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার; পুলিশ সুপার, কক্সবাজার; প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ, কক্সবাজার; পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর (চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়); চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ, সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার।
বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট জনাব মিনহাজুল হক চৌধুরী ও এ্যাডভোকেট জনাব সাঈদ আহমেদ কবীর ।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:

সাঈদ আহমেদ কবীর
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইলঃ ০১৭১১২০৮০৮১

গাজীপুর জেলাধীন শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত শৈলাট, গাজীপুর ও নয়াপাড়া মৌজাধীন শৈলাট, গাজীপুর ও নয়াপাড়া গ্রামসমূহের কৃষিজমি সুরক্ষায় রুল ও অন্তর্বতীকালীন আদেশ দিয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট। রুলে আদালত দেশের কৃষিজমি সুরক্ষার লক্ষ্যে একটি নির্দিষ্ট আইন প্রণয়নে ব্যর্থতা ও কৃষিজমির বিরুদ্ধ ব্যবহার থেকে উল্লেখিত গ্রামসমূহের কৃষিজমি সুরক্ষার ব্যর্থতা কেন অসাংবিধানিক, আইন বহির্ভূত ও জনস্বার্থের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না তা ৬ সপ্তাহের মধ্যে জানাতে ১২টি সরকারি অফিসকে নির্দেশ দিয়েছেন। একইসাথে কেন গাজীপুরের উল্লেখিত ৩টি গ্রামের কৃষিজমি পুনরুদ্ধার করার নির্দেশ প্রদান করা হবে না তাও জানতে চেয়েছেন। সেইসাথে আদালত গ্রাম ৩টিতে কি পরিমাণ কৃষিজমি ভিন্নভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, মেসার্স টোটাল কেয়ার প্লাটিনাম লি: নামক প্রতিষ্ঠানের নামে নামজারিকৃত ২০৩.০৬ একর জমির মালিকানা, শ্রেণি পরিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য এবং স্থানীয় জনগণের জমির জবর দখলের অভিযোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ৮ সপ্তাহের মধ্যে দাখিলের জন্য জেলা প্রশাসক, গাজীপুর ও সহকারী কামশনার, শ্রীপুরকে নির্দেশ প্রদান করেছেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ও সমমনা আরও ৫টি সংগঠন কর্তৃক দায়েরকৃত জনস্বার্থমূলক মামলার প্রাথমিক শুনানী শেষে আজ (১৪ মার্চ, ২০১৭) জনাব বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদ এবং জনাব বিচারপতি মোঃ সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেন।

মামলার বাদী- বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (বাস্ট), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং নিজেরা করি।

মামলার বিবাদী- সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়; সচিব, আইন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়; সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়; সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়; মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, গাজীপুর; পুলিশ সুপার, গাজীপুর; চেয়ারম্যান, শ্রীপুর উপজেলা; উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শ্রীপুর; সহকারি কমিশনার (ভূমি), শ্রীপুর; ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, শ্রীপুর থানা; ভূমি কর্মকর্তা, মাওনা ইউনিয়ন ভূমি অফিস, শ্রীপুর, মেসার্স টোটাল কেয়ার প্লাটিনাম লিমিটেড।

সংগঠনগুলোর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বেলার আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন

সাঈদ আহমেদ কবীর
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইলঃ ০১৭১১২০৮০৮১
তারিখ: ১৪ মার্চ, ২০১৭

 

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

হাজারীবাগস্থ ট্যানারীসমূহ বন্ধে হাইকোর্টের প্রদত্ত নির্দেশ বহাল রেখেছেন আপীল বিভাগ
আজ (১২ মার্চ, ২০১৭) প্রধান বিচারপতি জনাব সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি জনাব হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী-এর সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের বেঞ্চ বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার গুডস এ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিএফএলএলইএ) কর্তৃক দায়েরকৃত সিভিল মিসিলিনিয়াস পিটিশন (নং ৫২০/২০১৭) খারিজ করে হাজারীবাগস্থ ট্যানারীসমূহ বন্ধ সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রেখেছেন। ফলে হাজারীবাগস্থ সকল ট্যানারীসমূহের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে আর কোন বাধা রইলনা।
১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত রীট আবেদনের (৮৯১/১৯৯৪) প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০০১ সালে লাল শ্রেণীভুক্ত সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ১ বছরের মধ্যে পরিবেশ দূষণরোধে প্রয়োজনীয় কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের এ আদেশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় বেলা পুনরায় ২০০৯ সালে প্রয়োজনীয় নির্দেশ চেয়ে আবেদন দাখিল করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৩ জুন, ২০০৯ তারিখে জনাব বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ও জনাব বিচারপতি মো: মমতাজ উদ্দিন আহমেদ-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২০১০ সালের ফেব্রয়ারি মাসের মধ্যে হাজারীবাগস্থ সমস্ত ট্যানারী স্থানান্তরের এবং স্থানান্তরে ব্যর্থ হলে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ট্যানারীসমূহ বন্ধের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে শিল্প মন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের জন্য দফায় দফায় আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করলে আদালত সর্বশেষ ৩০ অক্টোবর, ২০১০ তারিখে ৬ মাসের জন্য সময় বর্ধিত করেন। পরবর্তীতে শিল্প মন্ত্রণালয় আরো ২ বার সময় বাড়ানোর আবেদন করলেও আদালত সময় বৃদ্ধিকরণ সংক্রান্ত কোন নির্দেশ প্রদান করেননি। আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের ব্যত্যয় ঘটিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব একতরফাভাবে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারী স্থানান্তরের সময়সীমা ৩১ মার্চ, ২০১৭ তারিখ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা প্রদান করেন। এ ঘোষণার আইনগত বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেলা ৩ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে একটি আবেদন দায়ের করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে ০৬ মার্চ, ২০১৭ তারিখে জনাব বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদ এবং জনাব বিচারপতি মোঃ সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে স্থানান্তরে ব্যর্থ হাজারীবাগের সকল ট্যানারীকে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৪(৩) ও ৪(ক) ধারা অনুসরণ করে অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ প্রদান করেছেন। একইসাথে এ নির্দেশ বাস্তবায়নে পরিবেশ অধিদপ্তরকে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে আদালত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, আইজিপি এবং ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ প্রদান করেন। সেইসাথে মহামান্য আদালত হাজারীবাগস্থ সকল ট্যানারী বন্ধের নির্দেশ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন আগামী ৬ এপ্রিল, ২০১৭ তারিখে আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের এ নির্দেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার গুডস এ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিএফএলএলইএ) সিভিল মিসিলিনিয়াস পিটিশন দাখিল করলে আদালত তা খারিজ করে দেন। ফলশ্রতিতে হাজারীবাগের সকল ট্যানারীসমূহকে বন্ধ এবং ট্যানারীসমূহের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ বহাল রইল।
বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী ফিদা এম. কামাল। তাঁকে সহায়তা করেন বেলার আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
প্রধান নির্বাহী, বেলা।
মোবাইলঃ ০১৭১১৫২৬০৬৬
তারিখ: ১২ মার্চ, ২০১৭

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

স্থানান্তরে ব্যর্থ হাজারীবাগের সকল ট্যানারীকে অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ এবং ট্যানারীসমূহের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট। আজ, ৬ মার্চ, ২০১৭ জনাব বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদ এবং জনাব বিচারপতি মোঃ সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর দায়েরকৃত এক আবেদনের প্রেক্ষিতে এ নির্দেশ প্রদান করেন।

১৯৯৪ সালে বেলা কর্তৃক দায়েরকৃত রীট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০০১ সালে লাল শ্রেণীভুক্ত সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ১ বছরের মধ্যে পরিবেশ দূষণরোধে প্রয়োজনীয় কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনের নির্দেশ দেন। আদালতের এ আদেশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় বেলা প্রয়োজনীয় নির্দেশ চেয়ে আবেদন দাখিল করলে জনাব বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ও জনাব বিচারপতি মো: মমতাজ উদ্দিন আহমেদ-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২৩ জুন, ২০০৯ তারিখে এক আদেশের মাধ্যমে ২০১০ সালের ফেব্রয়ারি মাসের মধ্যে হাজারীবাগস্থ সমস্ত ট্যানারী স্থানান্তরের নির্দেশ দেন এবং স্থানান্তরে ব্যর্থ হলে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ট্যানারী কারখানাগুলো বন্ধের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে শিল্প মন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের জন্য দফায় দফায় আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করলে আদালত সর্বশেষ ২০১০ সালের ৩০ অক্টোবর ৬ মাসের জন্য সময় বর্ধিত করেন। পরবর্তীতে শিল্প মন্ত্রণালয় আরো ২ বার ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের নির্মাণ সময় বাড়ানোর আবেদন করলেও আদালত সময় বাড়ানোর কোন নির্দেশ দেননি। সর্বশেষ শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব একতরফাভাবে আদালতের অনুমতি ছাড়া হাজারীবাগ থেকে ট্যানারী স্থানান্তরের সময়সীমা ২০১৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিলে এ ঘোষণার আইনগত বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেলা ৩ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে একটি আবেদন দায়ের করে। বেলার আবেদনে শিল্প সচিবের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণার পাশাপাশি ২৩ জুন, ২০০৯ এর আদেশ অনুযায়ী পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৪(৩) ও ৪(ক) ধারা অনুসরণ করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে হাজারীবাগের ট্যানারী বন্ধের নির্দেশ প্রদানের আবেদন জানানো হয়। উল্লেখ্য যে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী সাভারে প্লট প্রাপ্ত ১৫৪টি ট্যানারীর মধ্যে কেবলমাত্র ৪৩টি ট্যানারী সাভারে স্থানান্তর হয়েছে। বাকী ১১২টি ট্যানারী হাজারীবাগে থেকেই কর্মকা পরিচালনা করছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী এসব ট্যানারী এমনকি আদালতের নির্ধারিত জরিমানাও পরিশোধ করেনি।

মহামান্য আদালত শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বেলার আইনজীবীদের শুনানির পর পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে স্থানান্তরে ব্যর্থ হাজারীবাগের সকল ট্যানারীকে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৪(৩) ও ৪(ক) ধারা অনুসরণ করে অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ প্রদান করেছেন। আদালতের এ নির্দেশ বাস্তবায়নে ২৩ জুন, ২০০৯ তারিখের আদেশ অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তরকে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, আইজিপি এবং ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদেশে আদালত উল্লেখ করেছেন যে, সাভারে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌছানোর প্রেক্ষিতে, ৩১ জানুয়ারি ২০১৭-এর পরে হাজারীবাগে কাচা চামড়া ঢুকতে না দেয়ার শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এবং হাইকোর্টের ২৩ জুন ২০০৯-এর আদেশের আলোকে হাজারীবাগে আর কোন দূষণকারী ট্যানারী পরিচালনার কোন সুযোগ নেই। মহামান্য আদালত হাজারীবাগের সকল ট্যানারী বন্ধের নির্দেশ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন আগামী ৬ এপ্রিল, ২০১৭ তারিখে আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত ১০ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে মামলাটির পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য করেছেন।

বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী ফিদা এম. কামাল। তাকে সহায়তা করেন বেলার আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মিনহাজুল হক চৌধুরী এবং সাঈদ আহমেদ কবীর। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট রইস উদ্দিন আহমেদ।

আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন

সাঈদ আহমেদ কবীর
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইলঃ ০১৭১১২০৮০৮১
তারিখ: ৬ মার্চ, ২০১৭

 

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

বাটালীহিলে মাস্টারপ্ল্যান বহির্ভূত মেসার্স রেইনবো সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন এন্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ স্টেশন উচ্ছেদে হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল

আজ (৬ মার্চ, ২০১৭ ) প্রধান বিচারপতি জনাব সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বিচারপতি জনাব হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এর সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের বেঞ্চ মহাপরিচালক, বাংলাদেশ রলওয়ে কর্তৃক দায়েরকৃত সিভিলপিটিশন ফর লিভ টু আপীল নং ৩৬২৭/২০১৫ খারিজ করে হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রাখেন।

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক শোভামন্ডিত বাটালী হিলের পাদদেশে চট্টগ্রাম মহানগরীর মাষ্টারপ্ল্যান এর বিধান ভঙ্গ করে এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র ব্যতীত বাংলাদেশ রেলওয়ের নিকট থেকে লীজকৃত ০.৩২ একর জায়গাতে মেসার্স রেইনবো সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন এন্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ স্থাপনের করলে উক্ত কার্যক্রমের আইনগত বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) জনস্বার্থমূলক মামলা (মামলা নং-৫৮৬/২০০৬) দায়ের করে। উক্ত মামলার শুনানী শেষে গত ৯ জুন, ২০১১ তারিখে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ রুল নিষ্পত্তি করে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উক্ত এলাকা হতে সিএনজি স্টেশনটি উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। প্রদত্ত নির্দেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সিভিলপিটিশন ফর লিভ টু আপীল নং ৩৬২৭/২০১৫ দায়ের করে।

বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী জনাব এ এম আমিনউদ্দীন ও আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী ।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:

সাঈদ আহমেদ কবীর
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইলঃ ০১৭১১২০৮০৮১
তারিখ: ৬ মার্চ, ২০১৭

 

 

 

আজ (১৪ ফেব্রয়ারি, ২০১৭) ইং তারিখে বিচারপতি মো: আশফাকুল ইসলাম এবং বিচারপতি জনাব আশীষ রঞ্জন দাস এর সমন্বয়ে গঠিত মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ শুনানী অন্তে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর, জৈনপুর, ছয়হিস্যা, চরভবনাথপুর, বাটিবান্ধা এবং রতনপুর মৌজার কৃষিজমি, জলাভূমি, মেঘনা নদীর অংশ ভরাট করার বিষয়ে আগামী ২২ ফেব্রয়ারি, ২০১৭ ইং তারিখে নারায়নগঞ্জ জেলা প্রশাসককে আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার নির্দেশ প্রদান করেন।

নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর, জৈনপুর, ছয়হিস্যা, চরভবনাথপুর, বাটিবান্ধা এবং রতনপুর মৌজার কৃষিজমি, জলাভূমি, মেঘনা নদীর অংশ বিশেষ ভরাট করে ইউনিক প্রোপ্রার্টিজ ডেভলাপমেন্ট লি: কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন সোনারগাঁও রিসোর্ট সিটি প্রকল্পের কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণার জন্য বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) রীট পিটিশন (রীট পিটিশন নং-১৬৮৩/২০১৪) দায়ের করে। উক্ত রীট পিটিশনের প্রাথমিক শুনানীতে হাইকোর্ট বিভাগ গত ২ মার্চ, ২০১৪ তারিখে রুলনিশি জারি করেন এবং ইউনিক প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লি: কে প্রকল্প এলাকার মাটি ভরাট কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নিষেধাজ্ঞা আদেশ জারি করেন। সেইসাথে ইতোপূর্বে ভরাটকৃত ভূমি হতে মাটি/বালি অপসারণের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ইউনিক প্রোপ্রার্টিজ ডেভলাপমেন্ট লি: সহ অন্যান্য বিবাদীগণ আদালতের আদেশ পালিত হয়েছে মর্মে আদালতে এফিডেভিট দাখিল করেন।

গত সেপ্টেম্বর ২০১৬ হতে ইউনিক প্রোপ্রার্টিজ ডেভলাপমেন্ট লি:-এর সোনারগাঁও রিসোর্ট সিটি প্রকল্পের স্থানে পুনরায় মাটি/বালু ভরাট শুরু হলে বেলা গত গত ২ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিশ প্রেরণ করে। ইউনিক প্রোপ্রার্টিজ ডেভলাপমেন্ট লি: গত ১৩ অক্টোর, ২০১৬ তারিখে তার সহযোগি কোম্পানী ইউনিক হোটেল এন্ড রিসোর্ট লি: এর পক্ষে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের অবকাশকালীন বেঞ্চে রীট পিটিশন ১৬৮৩/২০১৪ এর ২ মার্চ, ২০১৪ তারিখের প্রদত্ত আদেশ বাতিলের জন্য দরখাস্ত দাখিল করেন, শুনানী অন্তে অবকাশকালীন বেঞ্চ গত ২৫ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে নিষেধাজ্ঞার আদেশ সংশোধনক্রমে ইউনিক প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লি: ও ইউনিক হোটেল এন্ড রিসোর্টকে কার্যক্রম পরিচালনার আদেশ দেন। উক্ত আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে বেলা মাননীয় আপীল বিভাগে সিভিল মিসিলিনিয়াস পিটিশন দাখিল করেন। গত ০৩ নভেম্বর, ২০১৬ ইং তারিখে আপীল বিভাগ শুনানী অন্তে হাইকোর্ট বিভাগের গত ২৫ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখের আদেশ স্থগিত করেন। ফলশ্রতিতে মাটি ভরাটের কার্যক্রমের উপর হাইকোর্টের ২রা মার্চ, ২০১৪ তারিখের নিষেধাজ্ঞা আদেশ বহাল থাকে। পুনরায় একই এলাকায় মাটি ভরাট শুরু করলে বেলা গত ১৬ জানুয়ারি, ২০১৭ ইং তারিখে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করে। মামলার শুনানী শেষে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ গত ২২ জানূয়ারি, ২০১৭ তারিখে বিবাদীগণের উপর আদালত অবমানার রুল জারি করেন। আদলতের এহেন নির্দেশ থাকা সত্তেও মাটি ভরাট কার্যক্রম চলতে থাকলে বেলা ৬ ফেব্রয়ারি, ২০১৭ ইং তারিখে বিবাদীদের আদলতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যার আবেদন করে।

সেই প্রেক্ষিতে আজ (১৪ ফেব্রয়ারি, ২০১৭) ইং তারিখে বিচারপতি মো: আশফাকুল ইসলাম এবং বিচারপতি জনাব আশীষ রঞ্জন দাস এর সমন্বয়ে গঠিত মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ শুনানী অন্তে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর, জৈনপুর, ছয়হিস্যা, চরভবনাথপুর, বাটিবান্ধা এবং রতনপুর মৌজার কৃষিজমি, জলাভূমি, মেঘনা নদীর অংশ ভরাট করার বিষয়ে আগামী ২২ ফেব্রয়ারি, ২০১৭ ইং তারিখে নারায়নগঞ্জ জেলা প্রশাসককে আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার নির্দেশ প্রদান করেন।

বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী জনাব ফিদা এম. কামাল। বিবাদী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জনাব আহসানুল করীম।

আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন
সাঈদ আহমেদ কবীর
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইলঃ ০১৭১১২০৮০৮১
তারিখ: ১৪ ফেব্রয়ারি, ২০১৭

 

 

 

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে রাজউকের দেয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী সীমিত পরিমাণ বন সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগ ১১ মার্চ, ২০১৪ তারিখে যে রায় দিয়েছিলেন, পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার সিভিল পিটিশনের প্রেক্ষিতে আজ ২ ফেব্রয়ারি, ২০১৭ তারিখে তাতে পরিবর্তন এনেছেন আপীল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জনাব সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি জনাব হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি জনাব মির্জা হোসেন হায়দারের সমন্বয়ে গঠিত আপীল বিভাগের চার সদস্য বিশিষ্ট বেঞ্চ রাজউকের প্রদত্ত দলিলে প্রদর্শিত বন এর পরিবর্তে পূর্বাচল প্রকল্পের সকল বন রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসাথে এ প্রকল্পের স্বপক্ষে রাজউককে পরিবেশ অধিদপ্তর হতে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য যে রাজউক পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ ছাড়াই পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করে যার বিরুদ্ধে বেলাসহ ৭টি পরিবেশবাদী সংগঠন (আইন ও সালিশ কেন্দ্র, এএলআরডি, বাস্ট, বাপা, আইএবি, পবা, নিজেরাকরি) হাইকোর্টে ২০১৩ সালে একটি জনস্বার্থমূলক মামলা দায়ের করে। সে মামলার রায়ে হাইকোর্ট বিভাগ রাজউকের প্রদর্শিত ২৩৫ একর জায়গা বন হিসেবে সংরক্ষণের নির্দেশ দেন এবং রায় হওয়া সত্তেও মামলাটি চলমান রাখেন। পরিবেশ অধিদপ্তর পূর্বাচলের জন্য অধিগ্রহণকৃত গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের বড়কাউ ও পারাবর্থা মৌজায় বিদ্যমান বনভূমি ৬৭৭.৫০ একর হওয়ায় পরিবেশগত ছাড়পত্র না দিয়ে রাজউকের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা আহান করে। পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়েই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা এবং বিদ্যমান ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনায় ৪৮৬.৭৭ একর মিশ্র বনভূমিকে আদালতে ভ্রান্তভাবে গৃহস্থালী বন দেখানোর বিরুদ্ধে বেলা আপীলের আবেদন জানালে আজ আদালত এ আদেশ প্রদান করেন।

বেলার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র এ্যাডভোকেট ফিদা এ কামাল।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
প্রধান নির্বাহী, বেলা।
মোবাইলঃ ০১৭১১৫২৬০৬৬
তারিখঃ ২ ফেব্রয়ারি, ২০১৭

 

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

আজ (২৫ জানুয়ারি, ২০১৭) সিলেট জেলাধীন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাস্থ চিকাডোরা মৌজায় ১৩৭.৫০ একর নিয়ে অবস্থিত শাহ আরপিন টিলা কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ও আদালতের আদেশ পালন করতে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।

পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়েই চিকাডোরা মৌজায় অবস্থিত আরপিন টিলা কাটার বিরুদ্ধে বেলা ২০০৯ সালে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি জনস্বার্থমূলক মামলা (নং ৫৮৭৩/২০০৯) দায়ের করে। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের জনাব বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এবং জনাব বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়ে শাহ আরপিন টিলা কর্তনের দায়ে ১০ নং বিবাদীর (১০ নং নোটিশ গ্রহীতা জনাব মোহাম্মদ আলী, স্বত্তাধিকারী, মেসার্স বসির কোম্পানী, গ্রাম কাঠাল বাড়ি, কোম্পানিগঞ্জ, সিলেট) বিরুদ্ধে রূল নিশি জারি করেন এবং টিলা কাটার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আদেশ প্রদান করেন যা এখনো বলবৎ আছে। আদালতের এমন সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্তেও অবৈধভাবে টিলা কেটে পাথর উত্তোলনের কাজ অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায় যে, গত ২৩ জানুয়ারি, ২০১৭ ইং তারিখে টিলা খুঁড়ে পাথর উত্তোলনের সময় টিলার কিছু অংশ ধ্বসে পড়ে ছয়জন শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহত শ্রমিকরা হলেন ১) আবদুল কাদির (৩০) তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ; ২) আল হাদিস (৪০) ভাটিপাড়া, দিরাই সুনামগঞ্জ; ৩) আল আমিন (৩০) ভাটিপাড়া, দিরাই, সুনামগঞ্জ; ৪) তাহের মিয়া (৩৫) তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ; ৫) আসিফ (২৫) পূর্বধলা, নেত্রকোনা ও ৬) খোকন (৩০) পূর্বধলা, নেত্রকোনা। এছাড়াও মাটিচাপা পড়ার ঘটনায় রফিক মিয়া নামের একজনকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আদলতের নির্দেশ সম্পূর্ণরূপে অমান্য করে টিলা কর্তন করে পাথর উত্তোলনের কাজ এখনো অব্যাহত থাকায় ১৩৭.৫০ একর টিলার অনেকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এহেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে এবং অবিলম্বে শাহ আরপিন টিলা কাটা বন্ধ করতে সেইসাথে, টিলা কর্তনকালে ক্ষতিগ্রস্ত নিহত ও আহত পাথরশ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের প্রদানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বিবাদীগণের উপর এ আদালত অবমাননার নোটিশ প্রেরণ করেছে বেলা।

বিবাদীগণ হলেন ভারপ্রাপ্ত সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়; সচিব, ভমি মন্ত্রণালয়; সচিব, খনিজ ও জ্বালানী বিভাগ; মহাপরিচালক; পরিবেশ অধিদপ্তর; জেলা প্রশাসক, সিলেট; পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব), খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো; পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর (সিলেট বিভাগীয় অফিস); উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা, সিলেট; অতিরিক্ত সচিব, ওয়াকফ প্রশাসন; স্বত্তাধিকারী, মেসার্স বসির কোম্পানী; গ্রাম কাঠাল বাড়ি, কোম্পানিগঞ্জ, সিলেট।

বার্তা প্রেরক
খন্দাকর নীলিমা ইয়াসমিন
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইল: ০১৬৭৫১১৩৮৬০
তারিখ: ২৫ জানুয়ারি, ২০১৭

 

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

সিলেট জেলার অন্তর্গত সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ ব্যতীত অবৈধ এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত সকল স্টোন ক্রাশার মেশিনের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশে জারীকৃত রুল এ্যাবসলিউট করেছেন আদালত। ৩ মাসের মধ্যে অনুমোদিত সকল স্টোনক্রাশিং মেশিনকে স্টোনক্রাশিং জোনের স্থানান্তর; অননুমোদিত সকল স্টোনক্রাশিং মেশিনকে উচ্ছেদ; মামলাটিকে কনটিনিউইং ম্যান্ডামাস ঘোষণা করা এবং স্টোন ক্রাশিং মেশিন স্থাপন নীতিমালা, ২০০৬ -এর বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করে রায় প্রদান করেছে আদালত। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত রীট আবেদন (রীট পিটিশন নং ৭৫৫২/২০১৫)-এর শুনানী শেষে (আজ ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭) জনাব বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী এবং জনাব বিচারপতি কাজী মোঃ ইজারুল হক আকন্দ-এর সমন্বয়ে গঠিত মহামান্য হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় প্রদান করেন।

সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তর হতে প্রাপ্ত তথ্যানুয়ায়ী সিলেট জেলার অন্তর্গত সদর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৬০৬টি স্টোনক্রাশার মেশিন তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল যার মধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে ২১৩টির এবং ছাড়পত্রবিহীন মেশিনের সংখ্যা ৩৯৩টি । ক্রাশার মেশিনের শব্দ ও ধূলার কারণে এলাকাবাসী চর্মরোগ, সর্দি, মাথাধরা, কানে কম শোনাসহ নানা মারাত্মক পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছিল, বেশকটি স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং ধ্বংস হয়ে গেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বিভিন্ন স্থানে অবৈধ এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত স্টোন ক্রাশার মেশিনের কার্যক্রম বন্ধ করতে এবং যথাযথ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ সাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য স্থানে স্থানান্তর করতে বেলা এই মামলা দায়ের করে। মামলার প্রাথমিক শুনানী শেষে গত ০৩ আগষ্ট, ২০১৫ তারিখে আদালত অবৈধ, অনিয়ন্ত্রিত এবং অননুমোদিতভাবে স্থাপিত ও পরিচালিত স্টোন ক্রাশার মেশিনকে কেন আইন বর্হিভূত ঘোষণা করা হবে না তার কারণ দর্শাতে বিবাদীদের উপর রুলনিশি জারি করেন। গত ২৬ জানুয়ারি, ২০১৬ তারিখে মাননীয় বিচারপতি জনাব মো: আশফাকুল ইসলাম এবং জনাব বিচারপতি জাফর আহমেদ-এর সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ ব্যতীত অবৈধ এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত সকল স্টোন ক্রাশার মেশিনের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়ে রুল জারী করেন এবং নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসক, সিলেট; পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিভাগীয় কার্যালয় (সিলেট); উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, (সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলা)- কে নির্দেশ দেয়া হয়।

মামলার বিবাদীগণ ছিলেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ এর সচিব; মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; প্রধান বন সংরক্ষক, বন বিভাগ; প্রধান প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ; জেলা প্রশাসক, সিলেট; পরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর (সিলেট); বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, সিলেট; অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, সিলেট জোন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ; সিলেট সদর উপজেলা, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং এ ৫টি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বৃন্দ।
বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাড্ভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী ।
বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:

এ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইল: ০১৭১১৫৭১১৩২
তারিখ: ২৪ জানুয়ারি, ২০১৬

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

সিলেটের ওপর দিয়ে প্রবাহিত সুরমা নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিত ও আইনবহির্ভুতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট মামলা (রীট আবেদন নং ১৬১/২০১৭) দায়ের করে। উক্ত রীট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১১ই জানুয়ারি, ২০১৭ ইং তারিখে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী এবং বিচারপতি জনাব ইজাজুল হক আকন্দ এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সুরমা নদীর (পেশনেওয়াজ) বালু মহাল কে সিলেটের ঘোষিত বালুমহালের তালিকা থেকে কেন বাদ দেওয়া হবে না? এই মর্মে রুল নিশি জারি করেন। সেইসাথে প্রবাহিত সুরমা নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিত ও আইনবহির্ভুতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে মামলার ১০ নং বিবাদী, মো: মাসুদ আহমদ, প্রোপাইটর, মেসার্স মাহমুদ তাজারতি এজেন্সী, মহাজন পট্টি, সিলেট) কে বালু উত্তোলন বন্ধ রাখতে নিসেজ্ঞা দিয়েছে আদালত। একইসাথে জেলা প্রশাসক, সিলেট কে সুরমা নদীভাঙ্গনের সম্ভাব্যতা যাচাই করে আদালতে একটি রিপোর্ট দাখিল করতে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সুরমা নদীতে অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের ফলে সিলেট অঞ্চলে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বালু উত্তোলনের ফলে দক্ষিণ সুরমা নদী ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় নদীভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে নদীটির স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং এর বিরুপ প্রভাব নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি, আবাসিক এলাকার উপর পড়েছে। উল্লেখিত অবস্থা থেকে সুরমা নদী রক্ষার স্বার্থেই বেলা রীট মামলাটি দায়ের করেন।

বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন মহনহাজুল হক চৌধুরী, এ্যাডভোকেট।

এ্যাডভোকেট মিহনহাজুল হক চৌধুরী,
আইনজীবী, বেলা
মোবাইল: ০১৭১১৫৭১১৩২
তারিখ- ১১ই জানুয়ারী, ২০১৭ ইং ।

 

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

ছাড়পত্র ব্যতীত এম.টি. প্রোডিওসার জাহাজ ভাঙ্গা বন্ধে বেলার নোটিশ প্রেরণ

গত ৫ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় বিষাক্ত বর্জ্যবাহী জাহাজ ভাঙা হচ্ছে সীতাকুে শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয় (সংযুক্ত)। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ব্যতীত চট্টগ্রাম জেলার সীতাকু উপজেলার জাহানাবাদের মাদামবিবির হাটে অবস্থিত জনতা ষ্টীল কর্পোরেশন শীপ ইয়ার্ডে নর্থ সি প্রডিউসার(বর্তমানে এম.টি. প্রডিউসার নামে পরিচিত) নামক একটি বিশাল বিষাক্ত বর্জ্যবাহী জাহাজ ভাঙা হচ্ছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৬ সালের মে মাসে নর্থ সি প্রডিউসার (বর্তমান নাম এমটি প্রসিউসার) নামক জাহাজটি যুক্তরাজ্য ছেড়ে ২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট বাংলাদেশে পৌঁছায় এবং এর দুদিন পর জনতা স্টীল শীপব্রেকিং ইয়ার্ডে নেওয়া হয়। ১৭ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে এমটি প্রডিওসারে মাত্রাতিরিক্ত তেজষ্ক্রিয় পদার্থ শনাক্ত শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তেজষ্ক্রিয়তা সনাক্তকারী দল জাহাজে মাত্রাতিরিক্ত রেডিয়াম, থোরিয়াম, ইরিডিয়াম, ইউরেনিয়াম, স্ট্রোনটিয়াম ও কোবাল্টের উপস্থিতি পেয়েছে যা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ব্রাসেলসভিত্তিক আর্ন্তজাতিক পরিবেশবাদী সংস্থা এনজিও শীপব্রেকিং প্লাটফর্মের তথ্যমতে, জাহাজটিতে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য থাকতে পারে, যা ভাঙার সময় মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ও দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে। বাংলাদেশে জাহাজভাঙা কারখানায় এমন কোন যন্ত্রপাতি নেই, যা দিয়ে এমন বিষাক্ত বর্জ্য অপসারণ ও দূষণমুক্ত করা যাবে। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এর ধারা ৬(ঘ) অনুযায়ী কোন জাহাজ কাটা বা ভাঙার ফলে যেন কোন প্রকার ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্যরে মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি না হয় তা প্রত্যেক জাহাজের মালিক, আমদানিকারক এবং জাহাজ কাটা বা ভাঙার কাজে ইয়ার্ড ব্যবহারকারী নিশ্চিত করতে বাধ্য থাকবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি জাহাজ ভাঙার কার্যক্রম শুরু করার আগে পরিবেশ অধিদপ্তর হতে ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক। প্রতিটি জাহাজের বিচিং-এর অনুমতি পাবার ক্ষেত্রেও পরিবেশে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী নর্থ সি প্রডিউসার (বর্তমান নাম এমটি প্রডিউসার) জাহাজটির আমদানিকারক জাহাজভাঙার কার্যক্রম পরিচালিত করছে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ভাঙার জন্য আমদানীকৃত জাহাজের এলসি খোলার পূর্বে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ শিপ বিল্ডিং এন্ড শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের নিকট জাহাজের বিস্তারিত বর্ণণা, আমদানিকারক ও জাহাজমালিকের সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতা চুক্তি, আমদানি নীতি অনুযায়ী জাহাজের বিস্তারিত বর্জ্যের তালিকা, জাহাজটি আমদানির জন্য প্রদত্ত অনাপত্তি পত্রের কপি জমা দিতে হয়। একইসাথে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিকট থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হয়। এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণের জন্য আবেদন অধিদপ্তরে দাখিলে সংশ্লিষ্ট জাহাজে বিপজ্জনক পদার্থ বা বিপজ্জনক বর্জ্যরে পরিমাণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত বিপজ্জনক পদার্থ নিরীক্ষক দ্বারা নিরূপ করাতে হয় এবং নিরীক্ষকের একটি প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। আবার পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী জাহাজটিতে পরিবেশ অধিদপ্তর, মেরিন একাডেমি, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স ও বিস্ফোরক অধিদপ্তর কোন ক্ষতিকর উপাদান নেই মর্মে ভাঙার জন্য ছাড়পত্র দিয়েছিল। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে নর্থ সি প্রডিউসার (এমটি প্রসিউসার নামে আমদানিকৃত) এর ন্যায় তেলের ট্যাংকার হিসেবে নির্মিত জাহাজে এ্যাসবেসটস, পিসিবি, ওডিএস, টিবিটি, পিএফও, ক্যাডমিয়াম, লেড, মরকারী, ক্রোমিয়াম, জিংক, রেডিও এ্যাকটিভ উপাদান, তেল ও তেল জাতীয় পদার্থ, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান ইত্যাদি থাকার শতভাগ সম্ভবনা থাকে।

আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী ভাঙার জন্য জাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে জাহাজে ইনবিল্ড দ্রব্যাদি ব্যতীত অন্য কোন বিষাক্ত বা বিপজ্জনক বর্জ্য পরিবহণ করা হচ্ছে না মর্মে সর্বশেষ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বা মালিকের প্রত্যয়ন পত্র এবং আমদানিকারকের ঘোষণাপত্র দাখিল করতে হয়। এমতাবস্থায় জাহাজটির আমদানি, ভাঙা ও বর্জ্য বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করার দাবি জানাচ্ছে এবং ইতোপূর্বে প্রদত্ত সকল ছাড়পত্র/অনাপত্তি বাতিল করে বিষাক্ত জাহাজ ভেঙে পরিবেশের ক্ষতি করার জন্য ক্ষতিপূরণ ধার্য করার দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাহাজ আমদানি করায় আমদানিকারকের লাইসেন্স বাতিল ও যে সকল কর্তৃপক্ষ জাহাজ ভাঙার জন্য ছাড়পত্র প্রদান করেছে তাদের সকলকে শাস্তি প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে আপনার গৃহীত পদক্ষেপ আগামী সোমবার সকাল ১০ টার মধ্যে নিম্নস্বাক্ষরকারীকে আবহিত করার জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। অন্যথায় পরিবেশ রক্ষায় আপনার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ নিমিত্তে পত্রের কপি অত্র অফিসে সংরক্ষিত আছে।

সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগ, প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক, মহাপরিদর্শক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম, কালেক্টর অব কাস্টমস্, সল্টগোলা, বন্দর, চট্টগ্রাম, চেয়ারম্যান, বন্দর, চট্টগ্রাম, প্রিন্সিপাল অফিসার, মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট, চট্টগ্রাম, সভাপতি, বাংলাদেশ শীপ-ব্রেকার্স এ্যাসোসিয়েশন ও স্বত্তাধিকারী, জনতা স্টীল কর্পোরেশন (শীপব্রেকিং ইয়ার্ড), সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম।

আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন।

আব্দুর রহমান পাটোয়ারী
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইলঃ ০১৯১৮৯১০৬৭৭
তারিখ: ২২ নভেম্বর, ২০১৬

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –
ইউনিক প্রোপ্রার্টিজ ডেভলাপমেন্ট লি:-এর সোনারগাঁও রিসোর্ট সিটি প্রকল্প
ও ইউনিক হোটেল এন্ড রিসোর্ট লি: এর কার্যক্রমে আপীল বিভাগের স্থগিতাদেশ

আজ (৩ নভেম্বর, ২০১৬) মাননীয় প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত ১নং বেঞ্চ শুনানী অন্তে ইউনিক প্রোপ্রার্টিজ ডেভলাপমেন্ট লি:-এর সোনারগাঁও রিসোর্ট সিটি প্রকল্প ও ইউনিক হোটেল এন্ড রিসোর্ট লি: এর কার্যক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের দেয়া আদেশের উপর আপীল বিভাগ স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।

নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর, জৈনপুর, ছয়হিস্যা, চরভবনাথপুর, বাটিবান্ধা এবং রতনপুর মৌজার কৃষিজমি, জলাভূমি, মেঘনা নদীর অংশ বিশেষ ভরাট করে ইউনিক প্রোপ্রার্টিজ ডেভলাপমেন্ট লি: কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন সোনারগাঁও রিসোর্ট সিটি প্রকল্পের কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণার জন্য বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) রীট পিটিশন (রীট পিটিশন নং-১৬৮৩/২০১৪) দায়ের করে। উক্ত রীট পিটিশনের প্রাথমিক শুনানীতে হাইকোর্ট বিভাগ গত ২ মার্চ, ২০১৪ তারিখে রুলনিশি জারি করেন এবং ইউনিক প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লি: কে প্রকল্প এলাকার মাটি ভরাট কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নিষেধাজ্ঞা আদেশ জারি করেন। সেইসাথে ইতোপূর্বে ভরাটকৃত ভূমি হতে মাটি/বালি অপসারণের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ইউনিক প্রোপ্রার্টিজ ডেভলাপমেন্ট লি: সহ অন্যান্য বিবাদীগণ আদালতের আদেশ পালিত হয়েছে মর্মে আদালতে এফিডেভিট দাখিল করেন।

গত সেপ্টেম্বর ২০১৬ হতে ইউনিক প্রোপ্রার্টিজ ডেভলাপমেন্ট লি:-এর সোনারগাঁও রিসোর্ট সিটি প্রকল্পের স্থানে পুনরায় মাটি/বালু ভরাট শুরু হলে বেলা গত গত ২ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিশ প্রেরণ করে। ইউনিক প্রোপ্রার্টিজ ডেভলাপমেন্ট লি: গত ১৩ অক্টোর, ২০১৬ তারিখে তার সহযোগি কোম্পানী ইউনিক হোটেল এন্ড রিসোর্ট লি: এর পক্ষে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের অবকাশকালীন বেঞ্চে রীট পিটিশন ১৬৮৩/২০১৪ এর ২ মার্চ, ২০১৪ তারিখের প্রদত্ত আদেশ বাতিলের জন্য দরখাস্ত দাখিল করেন, শুনানী অন্তে অবকাশকালীন বেঞ্চ গত ২৫ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে নিষেধাজ্ঞার আদেশ সংশোধনক্রমে ইউনিক প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লি: ও ইউনিক হোটেল এন্ড রিসোর্টকে কার্যক্রম পরিচালনার আদেশ দেন। উক্ত আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে বেলা মাননীয় আপীল বিভাগে সিভিল মিসিলিনিয়াস পিটিশন দাখিল করেন।

আজ (৩ নভেম্বর, ২০১৬) মাননীয় প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আপীল বিভাগের ১নং বেঞ্চ শুনানী অন্তে অবকাশকালীন বেঞ্চে গত ২৫ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখের আদেশ স্থগিত করেন এবং আগামী ছয় (৬) সপ্তাহের মধ্যে রুল শুনানীর জন্য হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চকে নির্দিষ্ট করে দেন। উক্ত আদেশের প্রেক্ষিতে পিরোজপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, জলাভূমি, মেঘনা নদীর অংশ বিশেষ রক্ষা পাবে।

বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী জনাব এ এম আমিনউদ্দীন। তাঁতে সহযোগিতা করেন মিনহাজুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন বিজ্ঞ এটর্নী জেনারেল জনাব মাহবুবে আলম এবং ইউনিক প্রোপার্টিজের পক্ষে ছিলন জনাব কামরুল হক সিদ্দিকী।

আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন

সাঈদ আহমেদ কবীর
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইলঃ ০১৭১১২০৮০৮১
তারিখ: ৩ নভেম্বর, ২০১৬

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

আশিয়ান সিটি প্রকল্পের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা

আশিয়ান সিটি প্রকল্পের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আপীল বিভাগ। ফলে প্রকল্পটি অবৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করে হাইকোর্টই আবার ভিন্ন রায় দিলেও কোন কার্যক্রম চালাতে পারবে না আশিয়ান কর্তৃপক্ষ। আশিয়ানের রিভিউ আবেদনে জনাব বিচারপতি সৈয়দ এবিএম মাহমুদুল হক, জনাব বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক এবং জনাব বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেন-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও রীট আবেদনকারীদের করা পৃথক দুটি আবেদনের শুনানী শেষে আপীল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ আজ (২২ আগস্ট, ২০১৬) এই নিষেধাজ্ঞা দেন। পূর্ণাঙ্গ রায় পেয়ে নিয়মিত আপীল দায়েরের আবেদন না করা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র, এএলআরডি, বেলা, বাস্ট, বাপা, আইএবি, নিজেরা করি এবং পবা-এ ৮টি মানবাধিকার এবং পরিবেশবাদী সংগঠন আশিয়ান সিটি প্রকল্পটির স্বপক্ষে প্রদত্ত রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র চ্যালেঞ্জ করে ২০১২ সালে একটি জনস্বার্থমূলক মামলা (রীট পিটিশন নং ১৭১৮২/২০১২) দায়ের করলে মহামান্য আদালত ১৬ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে এ সকল অনুমোদন অবৈধ মর্মে রায় দেন। সে সময় জনাব বিচারপতি সৈয়দ এবিএম মাহমুদুল হক এবং জনাব বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেন আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দিলেও জনাব বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ভিন্নমত পোষণ করে রায় দেন।

বাদীগণ আশিয়ান সিটি প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ২৪০ একরের আশিয়ান সিটি প্রকল্প বাস্তাবায়নে ভমিদস্যুতা এবং জলাশয় আইন, ২০০০; পরিবেশ আইন, ১৯৯৫; ল্যান্ড হোল্ডিং লিমিটেশন অর্ডার, ১৯৭২; এগ্রিকালচার রিফর্ম অর্ডিনেন্স, ১৯৮৩; বেসরকারি আবাসন প্রকল্প (ভূমি উন্নয়ন) বিধিমালা, ২০০৪ এবং রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ ভঙ্গের অভিযোগ আনে। একইসাথে প্রকল্প অনুমোদনে পূর্ত মন্ত্রণালয়, পরিবেশ মন্ত্রণালয়, রাজউক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে অস্বচ্ছতা এবং ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। রাজউক ২০০৭ সালে জলাশয় ভরাটের অভিযোগে আশিয়ান সিটি প্রকল্পের বিরুদ্ধে জলাশয় আইনে মামলা দায়ের করে। শুনানীতে হাজিরা না দেয়ায় মামলাটি আশিয়ান সিটির স্বপক্ষে খারিজ হয়ে যায়, যার বিরুদ্ধে রাজউক কোন আপিল করেনি। বিভিন্ন সময়ে রাজউক এ প্রকল্প অননুমোদিত বিধায় এতে প্লট না কিনতে ক্রেতা সাধারণকে বিজ্ঞপ্তি মারফত অনুরোধ জানায়। পরিবেশ অধিদপ্তরও জলাশয় ভরাটের অভিযোগে পরিবেশ আইনের অধীনে আশিয়ান সিটি প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করে। আশিয়ান সিটি প্রকল্প কর্তৃপক্ষের আপিল আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কোনরূপ যৌক্তিক কারণ না দেখিয়ে সেই জরিমানা কমিয়ে ৫ লক্ষ টাকা প্রদানের নির্দেশ দেয়। আশিয়ান সিটি প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ উঠলে জেলা প্রশাসক, ঢাকা এক রিপোর্ট প্রদান করেন যাতে দেখা যায় যে মাত্র ৪১ একর জমির স্বপক্ষে কিছু কাগজাদি দেখাতে পারলেও আশিয়ান সিটির নামে প্রায় ২৩০ একর ভমি ভরাট করা হয়েছে যা বাংলাদেশ ভতাত্তিক জরিপ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্লাবনভমি। জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী ভরাটকৃত জমিতে সরকারি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি রয়েছে। ভক্তভোগী জমির মালিকদের বার বার অভিযোগ সত্তেও আশিয়ান সিটি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জমি দখলের ব্যাপারে রাজউক, পুলিশ বা ভূমি প্রশাসন কেউ কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

প্রথমে জলাশয় ভরাটের অভিযোগে আশিয়ান সিটি প্রকল্পের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেও রাজউক ৪ অক্টোবর, ২০১২ তারিখে ২০টি শর্ত সাপেক্ষে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের জমির শতভাগ মালিকানা না থাকলেও এবং প্রকল্পের লেআউট প্ল্যান অনুমোদন ছাড়াই শর্ত সাপেক্ষে প্রদত্ত এ অনুমোদন ২০০৪ সালের বেসরকারি আবাসন প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন বিধিমালার লংঘন দাবি করে তা চ্যালেঞ্জ করে মামলার বাদীগণ। আশিয়ান সিটি প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে জলাশয় ভরাটের অভিযোগে ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করে এবং বাংলাদেশ ভত্তাতিক জরিপ অধিদপ্তর কর্তৃক আশিয়ান সিটি প্রকল্প এলাকাকে প্লাবনভমি বর্ণনা করা সত্তেও পরবর্তীতে এ প্রকল্পের সপক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র স্ববিরোধী এবং বেআইনী বলে মামলাটি চ্যালেঞ্জ করা হয়।

আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভলাপমেন্ট লি: কর্তৃক প্রকল্পের জন্য ল্যান্ড হোল্ডিং লিমিটেশন অর্ডার ১৯৭২ এবং এগ্রিকালচার রিফর্ম অর্ডিনেন্স, ১৯৮৩-তে নির্ধারিত ভূমির পরিমানের সর্বোচ্চ সিলিং-এর অতিরিক্ত জমি দখলে রাখার অভিযোগ আনা হলে মহামান্য আদালত তা আমলে নেন এবং জমির এরূপ মালিকানা আইন বর্হিভত মর্মে রায় দেন।

১৬ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ আশিয়ানের পক্ষের অনুমোদনগুলোকে বেআইনী ঘোষণা করে। রায় ঘোষণার পর আশিয়ান কর্তৃপক্ষ রিভিউ আবেদন দায়ের করে এবং প্রকল্পে ১১৯৭ একর জমি ব্যবহারের স্বপক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসকের একটি অনুমতি পত্র আদালতে দাখিল করে যা রায় ঘোষণার দিনেই আশিয়ান পেয়েছে বলে রিভিউ আবেদনে দাবি করা হয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষে প্রয়াত সিনিয়র আইনজীবী জনাব মাহমুদুল ইসলাম মামলা পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে এ্যাডভোকেট ফিদা এম. কামাল মামলা পরিচালনা করেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন এ্যাডভোকেট এম আমিনউদ্দিন, এ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।

আশিয়ান সিটির পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ।

আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:
এ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইল: ০১৭১১৫৭১১৩২
তারিখ- ২২ আগস্ট, ২০১৬

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

লালদীঘি রক্ষায় হাইকোর্টের রুল জারি

কক্সবাজার শহরের ৩ নং ওয়ার্ডের লালদীঘি এলাকায় অবস্থিত ১ একর আয়তন বিশিষ্ট লালদীঘির ভরাট করে মার্কেট নির্মাণের উপর রুল ও ৬ (ছয়) মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

লালদিঘী রক্ষার্থে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত মামলার (রিট মামলা নং ১০২৯১/২০১৬) প্রাথমিক শুনানী শেষে আজ (২২ আগস্ট, ২০১৬) বিচারপতি জনাব জুবায়ের রহমান চৌধুরী এবং বিচারপতি জনাব আতাউর রহমান খান-এর সমন্বয়ে গঠিত মহামান্য সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ উল্লেখিত রুল প্রদান করেন।

মামলার বিবাদীগণ হলেন- সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়; সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়; সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার; পুলিশ সুপার কক্সবাজার; পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়; মেয়র, কক্সবাজার পৌরসভা; সহকারী পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর (কক্সবাজার জেলা কার্যালয়) ।

উল্লেখ্য, পর্যটন নগরীর ঐতিহাসিক সৌন্দর্য ও উন্নত পরিবেশের মূর্ত প্রতীক কক্সবাজার শহরের লালদীঘি। প্রাচীন এ দীঘিটি স্থানীয় জনগণ দীর্ঘদিন থেকে তাদের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করে আসছে। এছাড়া কক্সবাজার জেলার ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি নির্বাপনের কাজে ব্যবহৃত হয় এ দীঘির পানি। নগরবাসীর দৈনন্দিন চাহিদা মেটানো ছাড়াও দীঘিটি প্রতিবেশ ব্যবস্থাপনায় অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ধরণের ছাড়পত্র ছাড়াই পৌর কর্তৃপক্ষ দীঘিটির পশ্চিম দিকে মার্কেট করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যা কক্সবাজারের ঐতিহ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ ।

বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাড্ভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী।

আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:

এ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইল: ০১৭১১৫৭১১৩২
তারিখ- ২২ আগস্ট ২০১৬।

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে স্থাপিত মেসার্স সেলিম রাইস মিল স্থানান্তরের নির্দেশ বহাল রেখেছে আদালত

আজ (১ আগস্ট, ২০১৬) প্রচলিত আইন উপেক্ষা করে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নং ওয়ার্ডের অধীন রায়েরমহল মৌজাস্থ মীরেরডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে স্থাপিত মেসার্স সেলিম রাইস মিল নামক রাইস মিলটি আবাসিক এলাকা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেবার জন্য জারীকৃত রুল এ্যাবসলিউট করেছেন আদালত। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত এক রীট আবেদনের (রীট মামলা নং ১১২৪৭/২০১৪) প্রেক্ষিতে জনাব বিচারপতি শামীম হাসনাইন এবং জনাব বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ-এর সমন্বয়ে গঠিত মহামান্য হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

গত ৮ ডিসেম্বর, ২০১৪ সালে জনাব বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার ও জনাব বিচারপতি আতাউর রহমান খান আবাসিক এলাকায় রাইস মিল স্থাপনের বিষয়ে বেলার এক রীট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিবাদীদের বিরুদ্ধে রুলনিশি জারী, মিলের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেন এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল বিবাদীদের কে মিলটি বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।

উল্লেখ্য খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নং ওয়ার্ডের অধীন রায়েরমহল মৌজাস্থ মীরেরডাঙ্গা এলাকাটি খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত মাস্টার প্লানে আবাসিক এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। ঘনবসতিপূর্ণ এ আবাসিক এলাকায় অনুমোদন ব্যতিরেকে গড়ে উঠা মেসার্স সেলিম রাইস মিল থেকে সৃষ্ট ধোঁয়া ও ছাই এলাকাবাসীর খাবার ও আসবাবপত্র নষ্ট করছিল। অন্যদিকে নির্গত ধোঁয়া এলাকাবাসীর শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি করছিল। সেইসাথে রাতে মিলে কর্মরত শ্রমিকের কোলাহল, মিলে ব্যবহৃত ট্রলির শব্দ এবং ধান সিদ্ধ করার গন্ধ এলাকাবাসীর জীবন দুর্বিসহ করে তুলেছিল।

সংশ্লিষ্ট বিবাদী মেসার্স সেলিম রাইস মিল-এর মিলটি স্থানান্তরের জন্য সীলগালা করা তালা খুলে দেয়ার অনুমতি প্রার্থনার প্রেক্ষিতে আদালত উক্ত নির্দেশনা প্রদান করেন।

মামলার বিবাদীগণ হলেন-সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়; মেয়র, খুলনা সিটি কর্পোরেশন; মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; চেয়ারম্যান, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ; জেলা প্রশাসক, খুলনা; পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা বিভাগ; এবং জনাব এসএম মাসুদ সেলিম, স্বত্তাধিকারী, মেসার্স সেলিম রাইস মিল।

বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাড্ভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী।

আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:
এ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইল: ০১৭১১৫৭১১৩২
তারিখ- ১ আগস্ট, ২০১৬

Real News :