মেসার্স সুপার ব্রিকস এর বিরুদ্ধে আদালতের রুলনিশি জারি

যশোর জেলাধীন কেশবপুর উপজেলার অন্তর্গত সাতবাড়িয়া মৌজায় নির্মিত মেসার্স সুপার ব্রিকস নামক ইটভাটার বিরুদ্ধে বিবাদীগণের উপর রুলনিশি জারি করেছে মহামান্য আদালত। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত জনস্বার্থমূলক মামলার (মামলা নং ৪৭৯৩/২০১৮) প্রাথমিক শুনানী শেষে আজ (৯ এপ্রিল, ২০১৮) বিচারপতি জনাব মঈনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি জনাব মোঃ আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ এ রুলনিশি জারি করেন।

যশোর জেলাধীন কেশবপুর উপজেলার অন্তর্গত সাতবাড়িয়া মৌজার আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশ্ববর্তী কৃষি জমিতে লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ব্যতীত আইন বহির্ভূতভাবে নির্মিত মেসার্স সুপার ব্রিকস এর কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না সে মর্মে রুলনিশি জারি করেছে আদালত। এছাড়াও ১২নং (সত্তাধিকারী, মেমার্স সুপার ব্রিকস) বিবাদী কর্তৃক নির্মিত মেসার্স সুপার ব্রিকস এর সকল কার্যক্রম হতে বিরত থাকার আদেশ প্রদান করেছে এবং আদালতের আদেশ যথাযথভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা সে মর্মে একটি প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে দাখিলের জন্য জেলা প্রশাসক (যশোর জেলা), পুলিশ সুপার (যশোর) ও সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে নির্দেশ প্রদান করেছে আদালত।

মামলার বিবাদীগণ ছিলেন- সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়; সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়; মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা বিভাগ; জেলা প্রশাসক, যশোর জেলা; পুলিশ সুপার, যশোর; উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কেশবপুর, যশোর; পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, যশোর জেলা কার্যালয়; চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, কেশবপুর, যশোর; সহকারী কমিশনার (ভূমি), কেশবপুর, যশোর; উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, কেশবপুর, যশোর; ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কেশবপুর থানা, যশোর; সত্তাধিকারী (জনাব মোঃ ফারুকুল ইসলাম), মেসার্স সুপার ব্রিকস, সাং-সাতবাড়িয়া, উপজেলা- কেশবপুর, যশোর।

বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট আলী মুস্তাফা খান ও এ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ কবীর।

আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:

এ্যাডভোকেট আলী মুস্তাফা খান
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইল: ০১৭৯৯৯২৮৩১৯
তারিখ : ৯ এপ্রিল, ২০১৮ ইং।

 

 

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

কক্সবাজার সদর উপজেলাধীন ঝিলংজা মৌজার পাহাড় ও টিলা কাটা বন্ধে আদালতের নির্দেশনা

কক্সবাজার সদর উপজেলাধীন ঝিলংজা মৌজায় অবস্থিত পাহাড় কাটা বন্ধে নির্দেশনা দিয়েছে আদালত। আজ (৫ এপ্রিল, ২০১৮) বিচারপতি জনাব নাঈমা হায়দার এবং বিচারপতি জনাব জাফর আহমেদ-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ কক্সবাজার সদর উপজেলাধীন ঝিলংজা মৌজার খতিয়ান নম্বর-১, জে.এল নম্বর-১৭, বি.এস দাগ নম্বর-১৭০৩০/৩৭৬৪৪, ১৭০৩০/৩১৮৯৪, ১৭০৩০/৩৭৬৪৩ এবং ১৭০৩০ দাগে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোডর্, কক্সবাজার তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসন ও অন্যান্য কাঠামো নির্মাণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করলে এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় (মামলা নং-৯০৯৪/২০১৫) বিবাদীদের প্রতি পাহাড় ও টিলা না কাটার জন্য আদেশ দিয়ে মামলার রুল নিষ্পত্তি করে রায় প্রদান করেন।
উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি জনাব মির্জা হোসেন হায়দার ও বিচারপতি জনাব আ.ক.ম জাহিরুল হক-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টর ডিভিশন বেঞ্চ উল্লেখিত দাগে অবস্থিত পাহাড় ও টিলা কে রক্ষায় বিবাদীদের ব্যর্থতাকে কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারি করেন। পাশাপাশি রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উক্ত জমি অধিগ্রহণের জন্য এলএ কেস নং ১/২০১৪, ১/২০১৫ এর কার্যকারিতা প্রাথমিক অবস্থায় দুই মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন যা অদ্যবধি বলবৎ ছিল।

মামলার বিবাদীগণ ছিলেন সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়; সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়; মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড; জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার; পুলিশ সুপার, কক্সবাজার; উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কক্সবাজার সদর উপজেলা; নির্বাহী প্রকৌশলী, বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ, কক্সবাজার; সহকারী পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর (কক্সবাজার জেলা কার্যালয়); মেয়র, কক্সবাজার পৌরসভা; সহকারী কমিশনার (ভূমি), কক্সবাজার সদর; ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, কক্সবাজার সদর; মোঃ জামাল উদ্দিন খান, পিতা- গ্রাম: বকশির ঘাটিছড়া, থানা: মঠবাড়িয়া, জেলা: পিরোজপুর ও মোঃ জিয়াউল হায়দার হাশমী, গ্রাম: খালিশাতলা সান উদ্দিন হাজি বাড়ি, থানা: নোয়াখালী সদর, জেলা: নোয়াখালী।

বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী জনাব মিনহাজুল হক চৌধুরী ও সাঈদ আহমেদ কবীর এবং বিবাদী পক্ষে ছিলেন এটর্নী জেনারেল জনাব মাহবুবে আলম।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন

সাঈদ আহমেদ কবীর
আইনজীবী, বেলা।
ফোন: ০১৭১১২০৮০৮১
৫ এপ্রিল, ২০১৮

 

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

মেসার্স এসএন ব্রিকস এর বিরুদ্ধে আদালতের রুলনিশি জারি

চট্টগ্রাম জেলাধীন ফটিকছড়ি উপজেলার অন্তর্গত পূর্ব ফটিকছড়ি মৌজায় নির্মিতব্য মেসার্স এন এস ব্রিকস নামক ইটভাটার নির্মাণের বিরুদ্ধে বিবাদীগণের উপর রুলনিশি জারি করেছে মহামান্য আদালত। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত জনস্বার্থমূলক মামলার (মামলা নং ৩৬৯৩/২০১৮) প্রাথমিক শুনানী শেষে আজ (২ এপ্রিল, ২০১৮) বিচারপতি জনাব মঈনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি জনাব মোঃ আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ এ রুলনিশি জারি করেন।

চট্টগ্রাম জেলাধীন ফটিকছড়ি উপজেলার অন্তর্গত পূর্ব ফটিকছড়ি মৌজায় কৃষি জমিতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের চলার পথের পার্শ্বে লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ব্যতীত আইন বহির্ভূতভাবে নির্মিতব্য মেসার্স এন এস ব্রিকস এর কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না সে মর্মে রুলনিশি জারি করেছে আদালত। এছাড়াও ১২নং (জনাব হাজী নুরুল ইসলাম) ও ১৩ নং (জনাব মো: শফিউল আলম) বিবাদীগণ কর্তৃক নির্মিতব্য মেসার্স এন এস ব্রিকস এর সকল কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং আদালতের আদেশ যথাযথভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা সে মর্মে একটি প্রতিবেদন আগামী ২৮ জুন, ২০১৮ তারিখের মধ্যে বিজ্ঞ আদালতে দাখিলের জন্য জেলা প্রশাসক (চট্টগ্রাম জেলা), পুলিশ সুপার (চট্টগ্রাম) ও সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। মামলাটির পুনরায় শুনানীর জন্য ১ জুলাই, ২০১৮ তারিখে ধার্য তালিকায় থাকবে ।

মামলার বিবাদীগণ ছিলেন- সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়; সচিব,পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়; মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম বিভাগ; জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম জেলা; পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম; পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়; উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ফটিকছড়ি; উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, ফটিকছড়ি; সহকারী কমিশনার (ভূমি), ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম; চেয়ারম্যান, ৫নং হাড়ুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ, ভুজপুর, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম; সত্তাধিকারী (জনাব হাজী নুরুল ইসলাম ও জনাব মো: শফিউল আলম), মেসার্স এন এস ব্রিকস সাং-উত্তর জলদী,গ্রাম পূর্ব ফটিকছড়ি, হাড়ুয়ালছড়ি, ভুজপুর, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ফটিকছড়ি থানা, চট্টগ্রাম।

বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট আলী মুস্তাফা খান ও এ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ কবীর।

আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:

এ্যাডভোকেট আলী মুস্তাফা খান
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইল: ০১৭৯৯৯২৮৩১৯
তারিখ : ২ এপ্রিল, ২০১৮ ইং।

 

 

 

 

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ সংরক্ষণের দাবী জানিয়ে বেলার লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ

আজ (২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের রমনা থানাধীন ১৯নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত শান্তিনগর এলাকায় অবস্থিত সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠটি সংরক্ষণের দাবী জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেছে বাংলাদেশ পেিবশ আইনবিদ সিমিতি (বেলা)। নোটিশে মাঠটিতে বিদ্যমান অননুমোদিত স্থাপনা, রাজনৈতিক কার্যালয় ও ওয়াসার পানির পাম্পসহ সকল স্থাপনা অপসারণপূর্বক মাঠটির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন রেখে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও জনস্বার্থে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাঠটির যথাযথ সংস্কারপূর্বক পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানানো হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের রমনা থানাধীন ১৯নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত শান্তিনগর এলাকায় অবস্থিত সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ রয়েছে। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে স্কুলের শিক্ষার্থীগণের পাশাপাশি এলাকার কিশোরদের খেলার স্থান হিসেবে এ মাঠটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছিল। দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়ক নির্মাণসামগ্রী রাখার জন্য মাঠটি ব্যবহার করে আসছে। মাঠটিতে নির্মাণসামগ্রী রাখার পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে স্থাপনা, রাজনৈতিক কার্যালয় ও ওয়াসার পানির পাম্প। সম্প্রতি উড়ালসড়ক নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হলেও ভবন, রাজনৈতিক কার্যালয় ও ওয়াসার পানির পাম্প অদ্যাবধি অপসারণ করা হয়নি। এসব স্থাপনা ও পানির পাম্প অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাগণ। দেশের জাতীয় দৈনিকে বিষয়টির গুরুত্ব উপধাবন করে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। স্থানীয় বাসিন্দাগণের দাবি ও জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মাঠটি দখলমুক্ত করতে কোনরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে এবং বেলা প্রতিনিধির সরেজমিন পরিদর্শনে প্রতীয়মান হয় যে, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম পার্শ্ব দখল করে রাজনৈতিক কার্যালয়ের স্থাপনা নির্মাণ, দক্ষিণ-পূর্ব পার্শ্বে ওয়াসার পানির পাম্প স্থাপন ও মাঠটির উত্তর পার্শ্বে একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, ভবনটি বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের আবাসিকভাবে থাকার জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া উক্ত মাঠটি বিভিন্ন ধরনের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ এলাকার কিশোরদের এ মাঠে খেলাধুলাসহ বিনোদন বিঘিত হচ্ছে।
নোটিশটি প্রেরণ করা হয়েছে সচিব, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়; সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়; মেয়র , ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (দক্ষিণ); মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; চেয়ারম্যান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ; ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা ওয়াসা; জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়; পুলিশ কমিশনার, পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়; সভাপতি, গভর্নিং বডি, সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ বিদ্যালয় বরাবর।
আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:

আব্দুর রহমান পাটোয়ারী
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইল: ০১৭১৭০৮০৯৩৪
তারিখ : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭।

 

 

খুলনা সিটিকর্পোরেশনের ঐতিহ্যবাহী খান জাহান আলী দীঘি রক্ষায় আদালতের নিদের্শনা

আজ (১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭) বিচারপতি জনাব মঈনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি জনাব জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৯নং ওয়ার্ডের মুজগুন্নী-খালিশপুর এলাকায় অবস্থিত খান জাহান আলী নামক ঐতিহাসিক দীঘি সুরক্ষার নির্দেশ প্রদান করেছেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত এক জনস্বার্থমূলক মামলার (নং ১৬৭৬৭/২০১৭) প্রাথমিক শুনানী শেষে মহামান্য আদালত উল্লেখিত দীঘি সুরক্ষা, পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে বিবাদীগণের ব্যর্থতা কেন বেআইনি, আইন বহির্ভূত ও জনস্বার্থের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না এবং কেন ঐতিহাসিক দিঘীটি ভরাটের কবল থেকে সংরক্ষণ করার ও ভরাটকৃত অংশ পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ প্রদান করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। একইসাথে দিঘীটির আকার ও আকৃতি পরিবর্তন করা থেকে বিরত থাকতে ভরাটকারীগণের (মো: জাকির হোসেন মৃধা, শেখ মারুফ হোসেন ও কাজী মাহবুবুর রহমান মৃধা (এ মামলার অন্যতম বিবাদী) উপর অন্তরবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা আদেশ প্রদান করেন যা ৬ মাস পর্যন্ত বহাল থাকবে। সেইসাথে ভরাটকারী হিসেবে চিহ্নিত বিবাদীগণের কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকিপূর্বক দিঘীটির বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য সম্বল্বিত প্রতিবেদন মেয়র, খুলনা সিটি কর্পোরেশন; মহা-পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; চেয়ারম্যান, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ; জেলা প্রশাসক, খুলনা; পুলিশ কমিশনার, খুলনা মেট্টোপলিটন; পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর (খুলনা বিভাগ)-কে এক মাসের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৯নং ওয়ার্ডের মুজগুন্নী-খালিশপুর এলাকার মুজগুন্নী মৌজাস্থ সি.এস ৪৪২ (আর এস ২১৩০ ও ৫০৪৭) নং দাগে উল্লেখিত ঐতিহ্যবাহী দীঘিটি অবস্থিত যা এলাকাবাসীর কাছে খান জাহান আলী দিঘী নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন যাবত উল্লেখিত এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান আধার হিসেবে এ দিঘী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। সুপেয় পানির সংকটে থাকা নিবিত্ত এলাকাবাসী এ দিঘীর পানি তাদের দৈনন্দিন নানা কাজে ব্যবহার করে থাকে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে এ দীঘির অবদান অনস্বীকার্য। মো: জাকির হোসেন মৃধা, শেখ মারুফ হোসেন ও কাজী মাহবুবুর রহমান মৃধা নামক এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি (মামলার অন্যতম বিবাদী) নিজেদের স্বার্থে জনগুরুত্বপূর্ণ এ দিঘী ভরাট করতে শুরু করলে এলাকাবাসীর আবেদনে বেলা জনস্বার্থে মামলাটি দায়ের করে যার প্রেক্ষিতে মহামান্য আদালত দিঘীটি সংরক্ষণে উল্লেখিত রুল ও নির্দেশ প্রদান করেন।

এ মামলার বিবাদীগণের মধ্যে রয়েছেন- সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়; সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়; মেয়র, খুলনা সিটি কর্পোরেশন; মহা-পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; চেয়ারম্যান, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ; জেলা প্রশাসক, খুলনা; পুলিশ কমিশনার, খুলনা মেট্টোপলিটন; পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর (খুলনা বিভাগ); মো: জাকির হোসেন মৃধা, ভরাটকারী; শেখ মারুফ হোসেন, ভরাটকারী; কাজী মাহবুবুর রহমান, ভরাটকারী ।

বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী । তাঁকে সহযোগীতা করেন বেলার আইনজীবী

এডভোকেট সাঈদ আহমেদ কবীর ও এডভোকেট আলী মোস্তফা খাঁন।

আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:
সাঈদ আহমেদ কবীর
আইনজীবী, বেলা।, মোবাইল: ০১৭১১২০৮০৮১, তারিখ : ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭।

 

বাঙালী নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত

বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত বাঙালী নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিত ও আইন বহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত জনস্বার্থমূলক মামলার (মামলা নং ১৪৫১৫/২০১৭) প্রাথমিক শুনানী শেষে আজ (২২ অক্টোবর, ২০১৭) বিচারপতি জনাব মঈনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি জনাব জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার বিলকাজুলী, শাকদহ ও এলাঙ্গী মৌজার পূর্ব-পশ্চিম পাশে অবস্থিত বথুয়াবাড়ি, বিলকাজুলী ও শাকদহ গ্রাম সংলগ্ন বাঙালী নদীর তীর থেকে নিষিদ্ধ ভারি যান্ত্রিক মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসাখে বাঙালী নদীতে অবস্থিত বাথুয়াবাড়ি বালুমহাল বগুড়া জেলাধীন বালুমহালের তালিকা থেকে কেন বাদ দেয়া হবে না; বাঙালী নদীকে আইন বহির্ভূত ও যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন থেকে রক্ষার নির্দেশ কেন প্রদান করা হবে না; এবং কেন উল্লেখিত নদীর প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও নদী তীরবর্তী কৃষিজমি, বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ক্ষতি সাধনের দায়ে ইজারাদারের নিকট থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে না তা জানতে চেয়ে বিবাদীগণের উপর রুল জারী করে আদালত।

বগুড়ার জেলার ধুনট উপজেলাধীন বাঙালী নদী সংলগ্ন বথুয়াবাড়ি, বিলকাজুলী ও শাকদহ মৌজার পূর্ব-পশ্চিম পাশে বথুয়াবাড়ি, বিলকাজুলী ও শাকদহ গ্রাম অবস্থিত। উল্লেখিত এলাকার ১১.০০ একর জায়গা জুড়ে বথুয়াবাড়ি বালুমহাল থেকে বিলকাজুলী ও শাকদহ মৌজায় অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে ভারি যান্ত্রিক মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর প্রতিবেশ ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একইসাথে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইজারা বহির্ভূত এলাকা থেকে যত্রতত্র বালু উত্তোলনের ফলে উল্লেখিত তিনটি গ্রামের নদী সংলগ্ন কৃষিজমি, বসতবাড়ি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এবং এলাকার একমাত্র শ্মশান ঘাটটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

উপরোক্ত অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) বাঙালী নদীর তীরবর্তী স্থানের মৌজাসমূহ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে এবং নদী ভাঙন থেকে উল্লেখিত মৌজার কৃষিজমি, বসতবাড়ি, অন্যান্য স্থাপনা রক্ষার্থে বথুয়াবাড়ি বালুমহালটির ইজারাচুক্তি বাতিলপূর্বক পুনরায় তা ইজারা প্রদান থেকে বিরত থাকা ও ক্ষতিপূরণের জন্য মহামান্য উচ্চ আদালতে রিট মামলাটি দায়ের করে।
মামলার বিবাদীগণ ছিলেন- সচিব, ভমি মন্ত্রণালয়; পরিবেশ ও বন মন্ত্রণাল; চেয়ারম্যান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন; মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড; জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, বগুড়া; পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর (রাজশাহী বিভাগ); উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ধুনট, বগুড়া; সহকারী কমিশনার (ভমি), ধুনট, বগুড়া; চেয়ারম্যান, ৬ নং ধুনট সদর ইউনিয়ন, ধুনট, বগুড়া ও জনাব মোঃ গোলজার হোসেন, বথুয়াবাড়ি, ধুনট, বগুড়া।

বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী ।
আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:

সাঈদ আহমেদ কবীর
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইল: ০১৭১১২০৮০৮১
তারিখ : ২২ অক্টোবর, ২০১৭ ইং।

 

 

 

 

 

 

 

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-র এক আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ (১২ অক্টোবর, ২০১৭) সাভার ট্যানারী কর্তৃক পরিবেশ দূষণরোধে জনাব বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও জনাব বিচারপতি মোঃ সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ ৫ দফা সম্পূরক নির্দেশনা প্রদান করেছে।

সিইটিপি ২৪ ঘন্টা চালু থাকছেনা মর্মে অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত বিসিককে ৪ অক্টোবর, ২০১৭ থেকে ৪ নভেম্বর, ২০১৭ পর্যন্ত ঘন্টা ধরে সিইটিপি চালু রাখার বিষয়টি মনিটরিং করা এবং এ সংক্রান্ত চার্ট আদালতে দাখিল করার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। একইসাথে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করতে বলেছেন যাতে সেখানে অবস্থান করে সিইটিপি কার্যক্রম ২৪ ঘন্টা মনিটরিং করা যায়। বিসিকের তথ্যানুযায়ী স্থানান্তরিত ৯২টি ট্যানারীর মধ্যে মাত্র ৪টি ট্যানারী লবণ পরিশোধন যন্ত্র স্থাপন করেছে। আদালত ট্যানারী মালিকদের একত্রে বসে লবণ কার্যকরভাবে শোধনের জন্য স্বল্প মেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী প্রাকসম্ভাব্যতা প্রতিবেদন প্রস্তত করে আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সকল ট্যানারী মালিকেরা যেন তরল বর্জ্যবাহী পাইপের মধ্যে কঠিন বর্জ্য দিতে না পারে সেজন্য পাইপের মুখে তিন ধরনে ছাকনি স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ নির্দেশনা বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস এ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার ও বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশন কে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক ট্যানারী মালিকের কারখানার মধ্যে ক্রোমিয়াম এবং তরল বর্জ্য জমা রাখার জন্য দুটি ট্যাঙ্ক স্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ক্রোমিয়াম এবং অন্যান্য তরল বর্জ্য আলাদা পাইপের মাধ্যমে এবং পরিশোধন ছাকনির এর মাধ্যমে সিইটিপি এবং ক্রোমিয়াম শোধনাগারে প্রেরণ করার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য বিসিককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ সকল নির্দেশনা আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিপালন করে নির্দেশিত বিবাদীগণকে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। আবেদনটি আবারও ১২ নভেম্বর, ২০১৭ প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য উত্থাপিত হবে।

উল্লেখ্য হাজারীবাগ থেকে স্থানান্তরিত হয়ে সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে যেয়েও ট্যানারী কারখানাগুলোর পরিবেশ দূষণ অব্যাহত থাকে। এ বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সহ অন্যান্য পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো সাভারে চামড়া শিল্প নগরী পরিদর্শন করে এবং স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে মতবিনিময় ও গণশুনানীর আয়োজন করে। এসব পরিদর্শন ও স্থানীয় অধিবাসীদের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট হয় যে সাভারস্থ বর্জ্য শোধনাগারটি পুরোপুরি ও কার্যকরীভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের সকল পরীক্ষায়ও বর্জ্যযুক্ত তরল ধলেশ্বরীতে পড়ছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। গণমাধ্যমে অতিরিক্ত লবণযুক্ত পানি শোধন না করেই ধলেশ্বরীতে ফেলা সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেন প্রাকাশিত হয়। এর প্রেক্ষিতে বেলা আদালতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করে।

বেলার পক্ষে আবেদনটির শুনানী করেন এ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং তাকে সহায়তা করেন এ্যাডভোকেট আলী মুস্তফা খান এবং এ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ কবীর। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ছিলেন এ্যাডভোকেট রইস উদ্দিন আহমেদ এবং রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন ডিএজি কাজী জিনাত হক।

আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:
আলী মুস্তাফা খান
আইনজীবী, বেলা।
ফোন: ০১৭৯৯৯২৮৩১৯
১২ অক্টোবর, ২০১৭।

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

আজ (৯ অক্টোবর, ২০১৭) তেজষ্ক্রিয়তাযুক্ত বিষাক্ত বর্জ্যবাহী জাহাজ এমটি প্রডিওসার (নর্থ সি প্রডিওসার) ভাঙার বা এর অংশবিশেষ অপসারণে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার আদেশ দিয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট। জনাব বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও জনাব বিচারপতি মোঃ সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ আজ এ আদেশ প্রদান করেন।

গত আগস্ট, ২০১৬-এ চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুস্থ মেসার্স জনতা ষ্টীল কর্পোরেশন (শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ড) উল্লেখিত বিষাক্ত বর্জ্যবাহী জাহাজ ভাঙার উদ্দেশ্যে আমদানি করে। ব্রাসেলসভিত্তিক আর্ন্তজাতিক পরিবেশবাদী সংস্থা এনজিও শীপব্রেকিং প্লাটফর্মের তথ্যমতে, জাহাজটিতে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে যা ভাঙার সময় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি, পরিবেশ দূষণ ও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মূলত নর্থ সি প্রডিউসার-এর ন্যায় তেলের ট্যাংকার হিসেবে নির্মিত জাহাজে ঘঙজগ (ঘধঃঁৎধষ ঙপপঁৎৎরহম জধফরড়ধপঃরাব গধঃবৎরধষং)-সহ এ্যাসবেসটস, পিসিবি, ওডিএস, টিবিটি, পিএফও, ক্যাডমিয়াম, লেড, মারকারী, ক্রোমিয়াম, জিংক, রেডিও এ্যাকটিভ উপাদান, তেল ও তেল জাতীয় পদার্থ ও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান থাকার শতভাগ সম্ভাবনা থাকে যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের আদেশ অমান্য করে জনতা স্টীল মিল (শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ড) কর্তৃক তেজষ্ক্রিয়তাযুক্ত বিষাক্ত বর্জ্যবাহী জাহাজ এমটি প্রডিওসার (নর্থ সি প্রডিওসার) আমদানী, সৈকতায়ন এবং ভাঙার অনুমতি দেয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এক জনস্বার্থমূলক মামলায় (রীট মামলা নং ৮৪৬৬/২০১৭) দায়ের করে। মামলার প্রাথমিক শুনানী শেষে আদালত গত ৮ জুন, ২০১৭ তারিখে জাহাজটির তেজষ্ক্রিয়তা বিষয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কাস্টমস্ এর মেগাপোর্ট ইনিসিয়েটিভকে ১০ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করে। একইসাথে আদালত এমটি প্রডিওসারের অনুকূলে প্রদত্ত ছাড়পত্রগুলো কেন বেআইনী ঘোষণা করা হবেনা তা জানতে চেয়ে বিবাদীগনের উপর ৩ সপ্তাহের জন্য রুল জারী করেন। সেইসাথে বিষাক্ত জাহাজটির নিরাপদ ভাঙা নিশ্চিত করতে আমদানীকরকের খরচে কেন নিরপেক্ষ বিদেশী বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হবেনা সে মর্মেও কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করেন।

পরবর্তীতে গত ২৪ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় নিষেধাজ্ঞা ভেঙে বর্জ্যবাহী জাহাজ কাটা হচ্ছে? মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদ ও নিজস্ব মাঠ পরিদর্শন প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বেলা উল্লেখিত জাহাজ ভাঙা ও জাহাজের কোন অংশ অপসারণের উপর অন্তরবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করলে মহামান্য আদালত গত ২৯ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে আদালত উল্লেখিত জাহাজ ভাঙার ও জাহাজে বিদ্যমান পাইপ ও পাইপে থাকা তেজষ্ক্রিয়তাযুক্ত তরল বর্জ্য (ংষঁফমবং) অপসারণের উপর ০৫ অক্টোবর, ২০১৭ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। আজ উল্লেখিত নিষেধাজ্ঞা মামলার চুড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগ।

আদালতে রুল-এর কোন জবাব না দিয়ে আমদানীকারক জনতা স্টীল কর্পোরেশন (শীপব্রেকিং ইয়ার্ড) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের যোগসাজশে জাহাজটির বিষাক্ত অংশ অপসারণ করছে মর্মে বেলা আজ আদালতে অভিযোগ উপস্থাপন করে।

সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত গত ২৯ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে প্রদত্ত নিষেধাজ্ঞা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বজিয়ে রাখার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য এমটি প্রডিওসার (নর্থ সি প্রডিওসার) নামক জাহাজটি আমদানী, সৈকতায়ন এবং ভাঙা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম জাহাজ ভাঙা নিয়ন্ত্রনে প্রদত্ত ৫ মার্চ ও ১৭ মার্চ, ২০০৯ তারিখের আদেশের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেছেন আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বিবাদী পক্ষের শুনানীতে অংশ গ্রহণ করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিষ্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এহসানুল করিম, মমতাজ উদ্দিন মেহেদী এবং ডিএজি কাজী জিনাত হক।

আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন-

সাঈদ আহমেদ কবীর
আইনজীবী, বেলা।
ফোন: ০১৭১১২০৮০৮১
৯ অক্টোবর, ২০১৭।

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

আজ (২৯ আগস্ট, ২০১৭) তেজষ্ক্রিয়তাযুক্ত বিষাক্ত বর্জ্যবাহী জাহাজ এমটি প্রডিওসার (নর্থ সি প্রডিওসার) ভাঙার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন উচ্চ আদালত। একইসাথে আদালত পাইপ ও পাইপে থাকা তেজষ্ক্রিয়তাযুক্ত তরল বর্জ্য (ংষঁফমবং) অপসারণের উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। বিচারপতি জনাব এম এনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি জনাব মো: জাহাঙ্গীর হোসেন-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের অবকাশকালীন বেঞ্চ এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ০৫ অক্টোবর, ২০১৭ পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে বহাল থাকবে।

গত ২৪ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় নিষেধাজ্ঞা ভেঙে বর্জ্যবাহী জাহাজ কাটা হচ্ছে? মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদ ও নিজস্ব মাঠ পরিদর্শন প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) উল্লেখিত জাহাজ ভাঙা ও জাহাজের কোন অংশ অপসারণের উপর অন্তরবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করলে মহামান্য আদালত উল্লেখিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের আদেশ অমান্য করে জনতা স্টীল মিল (শীপ ব্রেক্ংি ইয়ার্ড) কর্তৃক তেজষ্ক্রিয়তাযুক্ত বিষাক্ত বর্জ্যবাহী জাহাজ এমটি প্রডিওসার (নর্থ সি প্রডিওসার) আমদানী, সৈকতায়ন এবং ভাঙার অনুমতি দেয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এক জনস্বার্থমূলক মামলায় (রীট মামলা নং ৮৪৬৬/২০১৭) দায়ের করে। মামলার প্রাথমিক শুনানী শেষে আদালত গত ৮ জুন, ২০১৭ তারিখে জাহাজটির তেজষ্ক্রিয়তা বিষয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কাস্টমস্ এর মেগাপোর্ট ইনিসিয়েটিভকে ১০ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করে। একইসাথে আদালত এমটি প্রডিওসারের অনুকূলে প্রদত্ত ছাড়পত্র কেন বেআইনী ঘোষণা করা হবেনা তা জানতে চেয়ে বিবাদীগনের উপর ৩ সপ্তাহের জন্য রুল জারী করেন। সেইসাথে বিষাক্ত জাহাজটির নিরাপদ ভাঙা নিশ্চিত করতে আমদানীকরকের খরচে কেন নিরপেক্ষ বিদেশী বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হবেনা সে মর্মেও কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করেন। রুল বলবৎ এবং বিবাদীগণ কোন প্রতিউত্তর না অবস্থায় মেসার্স জনতা ষ্টীল কর্পোরেশন (শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ড) উল্লেখিত জাহাজ ভাঙার উদ্দেশ্যে পাইপ ও পাইপে থাকা তেজষ্ক্রিয়তাযুক্ত তরল বর্জ্য (ংষঁফমবং) অপসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করলে বেলা উল্লেখিত আবেদনের মাধ্যমে মহামান্য আদালতের দৃষ্টিতে আনে।

গত আগস্ট, ২০১৬-এ চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুস্থ মেসার্স জনতা ষ্টীল কর্পোরেশন (শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ড) উল্লেখিত বিষাক্ত বর্জ্যবাহী জাহাজ ভাঙার উদ্দেশ্যে আমদানি করে। ব্রাসেলসভিত্তিক আর্ন্তজাতিক পরিবেশবাদী সংস্থা এনজিও শীপব্রেকিং প্লাটফর্মের তথ্যমতে, জাহাজটিতে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে যা ভাঙার সময় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি, পরিবেশ দূষণ ও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মূলত নর্থ সি প্রডিউসার-এর ন্যায় তেলের ট্যাংকার হিসেবে নির্মিত জাহাজে ঘঙজগ (ঘধঃঁৎধষ ঙপপঁৎৎরহম জধফরড়ধপঃরাব গধঃবৎরধষং)-সহ এ্যাসবেসটস, পিসিবি, ওডিএস, টিবিটি, পিএফও, ক্যাডমিয়াম, লেড, মারকারী, ক্রোমিয়াম, জিংক, রেডিও এ্যাকটিভ উপাদান, তেল ও তেল জাতীয় পদার্থ ও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান থাকার শতভাগ সম্ভাবনা থাকে যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
উল্লেখ্য এমটি প্রডিওসার (নর্থ সি প্রডিওসার) নামক জাহাজটি আমদানী, সৈকতায়ন এবং ভাঙা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম জাহাজ ভাঙা নিয়ন্ত্রনে প্রদত্ত ৫ মার্চ ও ১৭ মার্চ, ২০০৯ তারিখের আদেশের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেছেন সিনিয়র আইনজীবী জনাব ফিদা এম কামাল, এ এম আমিন উদ্দিন এবং তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আলী মুস্তফা খান ও সাঈদ আহমেদ কবীর।

আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন-

সাঈদ আহমেদ কবীর
আইনজীবী, বেলা।
ফোন: ০১৭১১২০৮০৮১
২৯ আগস্ট, ২০১৭।

 

 

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

আসন্ন ঈদ-উল-আজহায় সাভার ট্যানারী থেকে ধলেশ্বরীর দূষণরোধে আদালতের নির্দেশ

আসন্ন ঈদ-উল-আজহায় সাভার ট্যানারী থেকে ধলেশ্বরীর দূষণরোধে জনাব বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও জনাব বিচারপতি মোঃ সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ আজ (২৪ আগস্ট, ২০১৭) বিসিক এবং সিইটিপি নির্মাণ ও পরিচালনায় নিয়োজিত চীনা কোম্পানী (ঔরধহমংঁ খরহমুযর ঊহারৎড়হসবহঃধষ চৎড়ঃবপঃরড়হ ঈড়. খঃফ.) ও তার সহযোগি দেশীয় প্রতিষ্ঠান (উঈখ)-কে কয়েক দফা নির্দেশ প্রদান করেছেন। আদালত ঔখঊচঈখ-উঈখ কে সিইটিপির নির্মিত দুটি মডেলকে প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসাথে ৪টি সিইটিপির সর্বমোট ৪টি মডেল চালু করতে ৩১ আগস্ট, ২০১৭-এর মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ সম্পন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া সম্ভব না হলে সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে শেড নির্মাণ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ঔখঊচঈখ-উঈখ-কে। বিসিককে এই মর্মে ঔখঊচঈখ-উঈখ এর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারনামা আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ট্যানারী মালেকেরা যেন ক্রোমিয়াম এবং অন্যান্য তরল বর্জ্য আলাদা পাইপের মাধ্যমে এবং পরিশোধন ছাকনির এর মাধ্যমে সিইটিপি এবং ক্রোমিয়াম শোধনাগারে প্রেরণ করে তা নিশ্চিত করতে বিসিককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সকল ট্যানারী মালিকেরা যেন ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখের মধ্যে লবণ পরিশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র নিজস্ব কারখানাগুলোতে স্থাপন করেন তাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বিসিককে।

হাজারীবাগ থেকে স্থানান্তরিত হয়ে সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে যেয়েও ট্যানারী কারখানাগুলোর পরিবেশ দূষণ অব্যাহত থাকে। এ বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সহ অন্যান্য পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো সাভারে চামড়া শিল্প নগরী পরিদর্শন করে এবং স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে মতবিনিময় ও গণশুনানীর আয়োজন করে। এসব পরিদর্শন ও স্থানীয় অধিবাসীদের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট হয় যে সাভারস্থ বর্জ্য শোধনাগারটি পুরোপুরি ও কার্যকরীভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের সকল পরীক্ষায়ও বর্জ্যযুক্ত তরল ধলেশ্বরীতে পড়ছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। গণমাধ্যমে অতিরিক্ত লবণযুক্ত পানি শোধন না করেই ধলেশ্বরীতে ফেলা সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেন প্রাকাশিত হয়। এর প্রেক্ষিতে বেলা আদালতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করলে আদালত শিল্প মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য শুনে এবং উঈখএর প্রতিনিধির উপস্থিতিতে উপরোল্লিখিত নির্দেশাবলী প্রদান করেন।

আদালত বিসিক এবং শিল্প মন্ত্রণালয়কে ৫ অক্টোবর, ২০১৭ এর মধ্যে আদালতের নির্দেশ প্রতিপালন সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। আবেদনটি আবারও ১০ অক্টোবর, ২০১৭ প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য উত্থাপিত হবে।

বেলার পক্ষে আবেদনটির শুনানী করেন সিনিয়র এ্যাডভোকেট ফিদা এম. কামাল এবং এ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং তাঁদেরকে সহায়তা করেন এ্যাডভোকেট আলী মুস্তফা খান এবং সাঈদ আহমেদ কবীর।

আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:
সাঈদ আহমেদ কবীর
আইনজীবী, বেলা।
ফোন: ০১৭১১২০৮০৮১
২৪ আগস্ট, ২০১৭।

 

 

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ, মধুপুর এবং জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, রাজশাহী-এর দায়েরকৃত এক আবেদনের প্রেক্ষিতে জনাব বিচারপতি ফরাহ মাহবুব ও জনাব বিচারপতি মাহমুদুল হক -এর সমন্বয়ে গঠিত মহামান্য সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ আজ (২৩ আগস্ট, ২০১৭) বনবাসীদের প্রথাগত অধিকারের নিষ্পত্তি না করে মধুপুর শালবনের অরণখোলা মৌজায় নয় হাজারের উপর বনভূমিকে রক্ষিত বন ঘোষণার বিষয়ে কারণদর্শাতে রুল জারী করেছেন এবং আগামী ১০ (দশ) দিনের মধ্যে রুলের জবাব প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। বন আইন, ১৯২৭-এর ধারা ৬-১৯ অনুযায়ী ২০ ধারায় রক্ষিত বন সংক্রান্ত চূড়ান্ত গেজেট জারীর পূর্বে মধুপুরের শালবনে বসবাসরত বনবাসীদের প্রথাগত অধিকার নিষ্পত্তি করার বিধান থাকলেও তা উপেক্ষা করে অরণখোলা মৌজায় রক্ষিত বন ঘোষণা করা হয়েছে এবং এর ফলে বনবাসীদের মিথ্যা মামলাসহ নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে আবেদনকারীরা উল্লেখ করে। এ মামলায় বনবাসীদের অধিকার নিষ্পত্তি সংক্রান্ত আদালতের পূর্ববর্তী রুল এবং নির্দেশ এড়াতেই ১৯৮৪ সালে প্রজ্ঞাপন জারীর ৩২ বছর পর তড়িঘড়ি করে ২০ ধারার নোটিশ জারী করা হয়েছে মর্মে আবেদনকারীরা আদালতে বক্তব্য রাখে। ২০ ধারার গেজেট প্রকাশের পূর্বে ৬-১৯ ধারায় উল্লেখিত বনবাসীদের ৬টি অধিকার কি পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করা হয়েছে সে সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রদান করতে মামলার ১, ৩, ৫, ৬ ও ১০ বিবাদীগণ যথাক্রমে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, টাংগাইলের জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তার উপর নির্দেশ প্রদান করেছেন আদালত।

উল্লেখ্য শালবন রক্ষার্থে উপরোল্লিখিত সংগঠনগুলো ২০১০ সালে একটি রিট মামলা (নং-১৮৩৪/২০১০) দায়ের করে। মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে ১৬ মার্চ, ২০১০ তারিখে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ বন আইন ১৯২৭ এর ধারা ৬-১৯ অনুযায়ী মধুপুর শালবনে বসবাসরত কোচ, গারো ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের অধিকারসমূহ নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না সে মর্মে রুল নিশি জারি করেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে শালবনে বসবাসরত কোচ, গারো ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের অধিকার সংক্রান্ত দলিল দস্তাবেজ প্রস্তুতের নির্দেশ দিলেও তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোচ, গারো ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের আবাসস্থল অরণখোলা মৌজার ৯ হাজার ১৪৫ একর জমিকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করে বন বিভাগ ১৫ ফেব্রয়ারী, ২০১৬ তারিখে এক প্রজ্ঞাপন জারী করেছে যা বেআইনী ও আইনগত কর্তৃক বহির্ভূত বলে আবেদনকারীরা আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে। এমন ঘোষণা বনবাসীদের প্রথাগত অধিকার অস্বীকৃতির সামিল যা বন রক্ষায় নিরুৎসাহিত করবে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালত ১ নভেম্বর, ২০১৭ মামলাটির চূড়ান্ত শুনানীর দিন ধার্য করেছে।

বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী মিনহাজুল হক এবং সাঈদ আহমেদ কবীর।

আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:
সাঈদ আহমেদ কবীর
আইজীবী, বেলা।
ফোন: ০১৭১১২০৮০৮১

 

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-র এক আবেদনের প্রেক্ষিতে জনাব বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও জনাব বিচারপতি মোঃ সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ আজ (১৬ আগস্ট, ২০১৭) সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণে নিয়োজিত চীনা কোম্পানী ((Jiangsu Lingzhi Environmental Protection Co. Ltd.)) ও তার বাংলাদেশী প্রতিনিধিকে ২২ শে আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১০.৩০-এ স্বশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে চামড়া শিল্প নগরীর দূষণ নিয়ন্ত্রক কৌশল বিষয়ে বক্তব্য দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ আদেশের ব্যাত্যয় ঘটলে তা আদালত অবমাননার সামিল হিসেবে গণ্য হবে বলে আদালত নির্দেশে উল্লেখ করেছেন।

চীনা কোম্পানী ((Jiangsu Lingzhi Environmental Protection Co. Ltd.)) বিসিক কর্তৃক সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), কমন ক্রোম রিকভারী ইউনিট, সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট; ক্লোরাইড ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম-এর নির্মাণ ও বাস্তবায়নের জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেও বেলার আবেদন এবং সরকারের উত্তরে এটি স্পষ্ট যে কেন্দ্রীয় তরল বর্জ্য শোধনাগার প্লান্ট (সিইটিপি), চব্বিশ ঘন্টা চালু রাখার কথা থাকলেও কোম্পানীটি তা রাখছে না এবং পরিশোধন না করেই তরল বর্জ্য ধলেশ্বরী নদীতে ফেলছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পাঁচটি ধারাবাহিক প্রতিবেদনে (ডিসেম্বর, ২০১৬ থেকে এপ্রিল, ২০১৭) ট্যানারী থেকে মাত্রাতিরিক্ত দূষক নিঃসরণ হচ্ছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অপরিশোধিত বর্জ্য দিয়ে ধলেশ্বরী নদী মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে বুড়িগঙ্গা নদীর পরিণতির দিকে এগুচ্ছে। তরল বর্জ্য ছাড়াও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও কোম্পানীটির চরম গাফিলতি স্পষ্ট। বারংবার তাগিদা দেয়া সত্তেও কোম্পানীটি কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এবং কঠিন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোন পরিকল্পনা জমা দিচ্ছে না। সরকার বার বার তাগিদা দিলেও কোম্পানীটির বিরুদ্ধে কোন কার্যকরী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। ফলে হাজারীবাগের মত দূষিত হয়ে পড়ছে সাভারের ট্যানারী এলাকা।

এসব যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের প্রেক্ষিতে মহামান্য আদালত কোম্পানীটির প্রতিনিধিদের আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের উপরোক্ত নির্দেশ প্রদান করেছেন। বেলার পক্ষে আবেদনটির শুনানী করেন সিনিয়র এ্যাডভোকেট ফিদা এম. কামাল এবং সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। শিল্প মন্ত্রালয়ের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট রইস উদ্দিন আহমেদ।

আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:
সাঈদ আহমেদ কবীর
আইনজীবী, বেলা।
ফোন: ০১৭১১২০৮০৮১
১৬ আগস্ট, ২০১৭।

 

 

 

 

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

আশিয়ান সিটি প্রকল্পের কার্যক্রমে আপীল বিভাগের নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের রিভিউ রায় স্থগিত

আটিটি মানবাধিকার এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জনাব সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃতে গঠিত আপীল বিভাগের বেঞ্চ আজ (৭ আগস্ট, ২০১৭) আশিয়ান সিটির পক্ষে প্রদত্ত হাইকোর্টের রিভিউ আবেদনের রায় স্থগিত করেছে। একইসাথে উত্তরখান, দক্ষিণখান, বরুয়া ও বাউথার মৌজায় প্রস্তাবিত আশিয়ান সিটি প্রকল্পের সকল কার্যক্রম (বিজ্ঞাপন, মাটি ভরাট, প্লট বিক্রয়, রেজিষ্ট্রেশন ইত্যাদি)-এর উপর পূর্বের প্রদত্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে আপীল বিভাগ।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র, এএলআরডি, বেলা, বাস্ট, বাপা, আইএবি, নিজেরা করি এবং পবা-এ ৮টি মানবাধিকার এবং পরিবেশবাদী সংগঠন আশিয়ান সিটি প্রকল্পটির স্বপক্ষে প্রদত্ত রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র চ্যালেঞ্জ করে ২০১২ সালে একটি জনস্বার্থমূলক মামলা (রীট পিটিশন নং ১৭১৮২/২০১২) দায়ের করলে মহামান্য আদালত ১৬ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে এ সকল অনুমোদন অবৈধ মর্মে রায় দেন। সে সময় জনাব বিচারপতি সৈয়দ এবিএম মাহমুদুল হক এবং জনাব বিচারপতি এ বি এম আলতাফ হোসেন আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দিলেও জনাব বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ভিন্নমত পোষণ করে রায় দেন। গত ১৬ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে আশিয়ান সিটির রিভিউ আবেদন গ্রহণ করে বিচারপতি সৈয়দ এ বি এম মাহমুদুল হক, বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ আশিয়ান সিটি প্রকল্প অবৈধ ঘোষণার রায় বাতিল করেন। সে প্রেক্ষিতে সংগঠনগুলো অন্তবর্তীকালীন আপীল (সিএমপি) দায়ের করলে গত ২২ আগস্ট, ২০১৬ আশিয়ান সিটি প্রকল্পের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আপীল বিভাগ।

বাদীগণ আশিয়ান সিটি প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ২৪০ একরের আশিয়ান সিটি প্রকল্প বাস্তাবায়নে ভমিদস্যুতা এবং জলাশয় আইন, ২০০০; পরিবেশ আইন, ১৯৯৫; ল্যান্ড হোল্ডিং লিমিটেশন অর্ডার, ১৯৭২; এগ্রিকালচার রিফর্ম অর্ডিনেন্স, ১৯৮৩; বেসরকারি আবাসন প্রকল্প (ভূমি উন্নয়ন) বিধিমালা, ২০০৪ এবং রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ ভঙ্গের অভিযোগ আনে। একইসাথে প্রকল্প অনুমোদনে পূর্ত মন্ত্রণালয়, পরিবেশ মন্ত্রণালয়, রাজউক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে অস্বচ্ছতা এবং ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। রাজউক ২০০৭ সালে জলাশয় ভরাটের অভিযোগে আশিয়ান সিটি প্রকল্পের বিরুদ্ধে জলাশয় আইনে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে রাজউক শুনানীতে হাজিরা না দেয়ায় মামলাটি আশিয়ান সিটির স্বপক্ষে খারিজ হয়ে যায়, যার বিরুদ্ধে রাজউক কোন আপিল করেনি। বিভিন্ন সময়ে রাজউক এ প্রকল্প অননুমোদিত বিধায় এতে প্লট না কিনতে ক্রেতা সাধারণকে বিজ্ঞপ্তি মারফত অনুরোধ জানায়। পরিবেশ অধিদপ্তরও জলাশয় ভরাটের অভিযোগে পরিবেশ আইনের অধীনে আশিয়ান সিটি প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করে। আশিয়ান সিটি প্রকল্প কর্তৃপক্ষের আপিল আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কোনরূপ যৌক্তিক কারণ না দেখিয়ে সেই জরিমানা কমিয়ে ৫ লক্ষ টাকা প্রদানের নির্দেশ দেয়। আশিয়ান সিটি প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ উঠলে জেলা প্রশাসক, ঢাকা এক রিপোর্ট প্রদান করেন যাতে দেখা যায় যে মাত্র ৪১ একর জমির স্বপক্ষে কিছু কাগজাদি দেখাতে পারলেও আশিয়ান সিটির নামে প্রায় ২৩০ একর ভমি ভরাট করা হয়েছে যা বাংলাদেশ ভতাত্তিক জরিপ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্লাবনভমি। জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী ভরাটকৃত জমিতে সরকারি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি রয়েছে। ভক্তভোগী জমির মালিকদের বার বার অভিযোগ সত্তেও আশিয়ান সিটি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জমি দখলের ব্যাপারে রাজউক, পুলিশ বা ভূমি প্রশাসন কেউ কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

প্রথমে জলাশয় ভরাটের অভিযোগে আশিয়ান সিটি প্রকল্পের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেও রাজউক ৪ অক্টোবর, ২০১২ তারিখে ২০টি শর্ত সাপেক্ষে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের জমির শতভাগ মালিকানা না থাকলেও এবং প্রকল্পের লেআউট প্ল্যান অনুমোদন ছাড়াই শর্ত সাপেক্ষে প্রদত্ত এ অনুমোদন ২০০৪ সালের বেসরকারি আবাসন প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন বিধিমালার লংঘন দাবি করে তা চ্যালেঞ্জ করে মামলার বাদীগণ। আশিয়ান সিটি প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে জলাশয় ভরাটের অভিযোগে ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করে এবং বাংলাদেশ ভত্তাতিক জরিপ অধিদপ্তর কর্তৃক আশিয়ান সিটি প্রকল্প এলাকাকে প্লাবনভমি বর্ণনা করা সত্তেও পরবর্তীতে এ প্রকল্পের সপক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র স্ববিরোধী এবং বেআইনী বলে মামলাটি চ্যালেঞ্জ করা হয়।

আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভলাপমেন্ট লি: কর্তৃক প্রকল্পের জন্য ল্যান্ড হোল্ডিং লিমিটেশন অর্ডার ১৯৭২ এবং এগ্রিকালচার রিফর্ম অর্ডিনেন্স, ১৯৮৩-তে নির্ধারিত ভূমির পরিমানের সর্বোচ্চ সিলিং-এর অতিরিক্ত জমি দখলে রাখার অভিযোগ আনা হলে মহামান্য আদালত তা আমলে নেন এবং জমির এরূপ মালিকানা আইন বর্হিভত মর্মে রায় দেন।

১৬ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ আশিয়ানের পক্ষের অনুমোদনগুলোকে বেআইনী ঘোষণা করে। রায় ঘোষণার পর আশিয়ান কর্তৃপক্ষ রিভিউ আবেদন দায়ের করে এবং প্রকল্পে ১১৯৭ একর জমি ব্যবহারের স্বপক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসকের একটি অনুমতি পত্র আদালতে দাখিল করে যা রায় ঘোষণার দিনেই আশিয়ান পেয়েছে বলে রিভিউ আবেদনে দাবি করা হয়। আশিয়ান কর্তৃপক্ষকে ভূমিদস্যু বলে আদালতে লিখিত বক্তব্য প্রদান করে মামলা চলাকালীন সময়ে আদালতকে অবহিত না করে গোপনে মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে ১১৯৭ একর জমি আশিয়ান সিটি প্রকল্পে ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে জেলা প্রশাসক অস্বচ্ছতার পরিচয় দিয়েছে মর্মে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো আদালতে বক্তব্য রাখে।

সংগঠনগুলোর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ড. কামাল হোসেন ও সিনিয়র এ্যাডভোকেট ফিদা এম. কামাল। রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল জনাব মাহবুবে আলম এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জনাব মুরাদ রাজা।

আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
প্রধান নির্বাহী, বেলা।
ফোন: ০১৭১১৫২৬০৬৬
৭ আগস্ট, ২০১৭।

 

 

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

 

নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর উপজেলার মেজপাড়া, আরাপাড়া ও পাচকাহানিয়া মৌজা থেকে পাহাড় ও টিলা কেটে ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ব্যতিত সাদা মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় (নং ১১৩৭৩/২০১৫) মহামান্য হাইকোর্ট উল্লেখিত মৌজাসমূহে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ব্যতিত পাহাড় ও টিলা কেটে নির্বিচারে সাদা মাটি উত্তোলনকে আইন বহির্ভূত এবং বেআইনী ঘোষণা করেছেন। পরিবেশ আইন ও বিধিমালার সাথে সমন্বয় ব্যতিত উল্লেখিত মৌজাসমূহ থেকে সাদা মাটি উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দিয়ে আজ (১৯ জুলাই, ২০১৭) মাননীয় বিচারপতি জনাব সৈয়দ মোহাম্মদ দাস্তগীর হোসেন এবং মাননীয় বিচারপতি জনাব মো: আতাউর রহমান খান-এর সমন্বয়ে গঠিত মহামান্য সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ এ রায় প্রদান করেন।

মামলার প্রাথমিক শুনানী শেষে মাননীয় বিচারপতি জনাব সৈয়দ মোহাম্মদ দাস্তগীর হোসেন এবং মাননীয় বিচারপতি জনাব এ. কে. এম. সাহিদুল হক -এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গত ১৪ মার্চ, ২০১৬ তারিখে উল্লেখিত মৌজায় অবস্থিত পাহাড় ও টিলা কেটে এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ব্যতিত সাদা মাটি উত্তোলনকে কেন আইন বহির্ভুত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে ৩ সপ্তাহের রুল জারি করেন। একইসাথে মামলা চলাকালীন সময়ে উল্লেখিত মৌজাসমূহ থেকে সাদা মাটি উত্তোলন প্রতিরোধ করতে বিবাদীগণের উপর নির্দেশ প্রদান করেন।

সাদা মাটি বা চিনামাটি সিরামিক শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯৬৯ সাল থেকে বাংলাদেশে সাদামাটি উত্তোলনের কাজ শুরু হয়। কিন্তু গত কয়েক বছর যাবৎ নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর উপজেলার মেজপাড়া, আরাপাড়া ও পাচকানাইহা মৌজা থেকে ১০টি চিহ্নিত কোম্পানী লীজ এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই যত্রতত্রভাবে পাহাড় ও ছোট টিলা কেটে সাদা মাটি সংগ্রহ করছে। ফলশ্রতিতে এ অঞ্চলের পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিয়েছে এবং গাছপালা ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। হাজং, গারো এবং অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের যাদের জীবন ও জীবিকা এই পাহাড় ও পাহাড়ী বনের উপর নির্ভরশীল, তারা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এমনকি পাহাড় কাটার ফলে প্রাণহানীর মত ঘটনাও ঘটেছে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী বেলার নিকট আইনগত সহায়তা চেয়ে আবেদন করলে তাদের আবেদনের ভিত্তিতে বেলা ২০১৫ সালে জনস্বার্থমূলক এই মামলা দায়ের করে।

মামলার বিবাদীগণ ছিলেন সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়; পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়; মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ভূ-তাত্তিক জরিপ অধিদপ্তর; পরিচালক, খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো; জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, নেত্রকোনা, উপপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ; উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, দূর্গাপুর উপজেলা, নেত্রকোনা, মেসার্স তাজমা সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লি:; বাংলাদেশ ইনসুলেটর এ্যান্ড স্যানিটারি ওয়্যার ফ্যাক্টরি লি:; মেসার্স পিপলস সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লি:; মেসার্স জাকের রিফ্যাক্টরি এ্যান্ড টাইলস এন্টারপ্রাইজ; মেসার্স মোমেনশাহী সিরামিক এ্যান্ড গাস ইন্ডাস্ট্রিজ; মেসার্স চায়না বাংলা সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লি:; মেসার্স ফু-ওয়াং সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লি:; মেসার্স জারডিন ইন্টারন্যাশনাল; মেসার্স বেঙ্গল ফাইন সিরামিক লি:; মেসার্স এস. আর. ইন্টারন্যাশনাল।

বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও মিনহাজুল হক চৌধুরী।

আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:
সাঈদ আহমেদ কবীর
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইল: ০১৭১১২০৮০৮১
১৯ জুলাই, ২০১৭।

 

 

 

তেজষ্ক্রিয় বর্জ্যযুক্ত জাহাজ এমটি প্রডিওসারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আদেশ

মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে তেজষ্ক্রিয়তা এবং অন্যান্য বিষাক্ত বর্জ্যবাহী জাহাজ এমটি প্রডিওসার (নর্থ সি প্রডিওসার)-কে আমদানী, সৈকতায়ন এবং ভাঙার অনুমতি দেয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-র দায়েরকৃত এক জনস্বার্থমূলক মামলায় (রীট মামলা নং ৮৪৬৬/২০১৭) মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ আজ (৮ জুন, ২০১৭) জাহাজটির তেজষ্ক্রিয়তা বিষয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কাস্টমস্ এর মেগাপোর্ট ইনিসিয়েটিভ এই প্রতিষ্ঠান তিনটির রিপোর্ট আগামী ১০ সপ্তাহের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেছেন। একইসাথে আদালত আমদানীকারকসহ জাহাজের মামলার ১৮ জন বিবাদীকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে ৫১ কোটি ৮২ লক্ষ ৭৭ হাহার ৫৭০ টাকায় জনতা স্টীল মিল (শীপ ব্রেক্ংি ইয়ার্ড) কর্তৃক সর্ববৃহৎ ড্যানিশ শিপিং কোম্পানী মার্কস হতে ক্রয়কৃত জাহাজ এমটি প্রডিওসারের অনুকূলে প্রদত্ত ছাড়পত্র কেন বেআইনী ঘোষণা করা হবেনা এবং কেন মিথ্যা ঘোষণা দেয়ার কারণে বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা সে মর্মে ৩ সপ্তাহের মধ্যে কারণদর্শাতে বিবাদীগণকে নির্দেশ দিয়েছেন। উপরন্তু সৈকতায়নকৃত বিষাক্ত জাহাজটির নিরাপদ ভাঙা নিশ্চিত করতে আমদানীকরকের খরচে কেন নিরপেক্ষ বিদেশী বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হবেনা সে মর্মে কারণদর্শানো নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এবং বিচারপতি মো: সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ রুল ও নির্দেশনা প্রদান করেন।
মামলার বিবাদীগণ হলেন-
সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়; সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়; সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ; জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম; মহাপরিচালক, কোস্ট গার্ড; কালেক্টর অব কাস্টমস্, বাংলাদেশ কাস্টমস; চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ; প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক, বিস্ফোরক অধিদপ্তর; মহাপরিদর্শক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর; পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; প্রিন্সিপাল অফিসার, মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট; সভাপতি, বাংলাদেশ শীপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশন; স্বত্তাধিকারী, জনতা স্টীল কর্পোরেশন (শীপব্রেকিং ইয়ার্ড); ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেসার্স এইচ আর শীপ ম্যানেজমেন্ট লিঃ (সেইফটি এজেন্সি)।
উল্লেখ্য দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের আদেশ অমান্য করে জনতা স্টীল মিল (শীপ ব্রেক্ংি ইয়ার্ড) তেজষ্ক্রিয়তাযুক্ত বিষাক্ত বর্জ্যবাহী এমটি প্রডিওসার (নর্থ সি প্রডিওসার, আইএমও নম্বর ৯১২৪০৫৮) নামক জাহাজটি আমদানী করে এবং ভাঙার কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে জাহাজটির বিষাক্ততার বিষয়ে এবং জাহাজটি ভাঙার ক্ষেত্রে জনতা স্টীল মিল (শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ড)-এর সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত থাকার বিষয়ে শীর্ষস্থানীয় ড্যানিশ গণমাধ্যম ড্যানওয়াচ ও স্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বেলা বিষয়টি নিয়ে আইনী কার্যক্রম শুরু করে। বেলার গবেষণায় প্রতীয়মান হয় যে বর্জ্য বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাহাজটি আমদানী করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে অত্যন্ত দায়সারাভাবে জাহাজটি সম্পূর্ণ পরীক্ষা না করেই পরিবেশ অধিদপ্তর জাহাজটি সৈকতায়নের সুপারিশ করে। পরবর্তীতে বিশেষ বিবেচনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং শিল্প মন্ত্রলালয় জাহাজটি সৈকতায়নের অনুমতি দেয়। জাহাজটি ভাঙা শুরু হলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সে প্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তর দ্বিতীয় কমিটি গঠন করলে সে কমিটি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কাস্টমস্ এর মেগাপোর্ট ইনিসিয়েটিভ-এর প্রতিবেদন আহান করে। দেশে বিশেষজ্ঞ না থাকার সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কাস্টমস্ এর মেগাপোর্ট ইনিসিয়েটিভ জাহাজটির বর্জ্যরে পরিমাণ নিরুপণে এবং ভাঙার ক্ষেত্রে বিদেশী বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পরামর্শ রাখলেও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত দ্বিতীয় কমিটি তা উপেক্ষা করে আমদানীকারকের মাধ্যমেই জাহাজটি বর্জ্যমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিলে বেলা জনস্বার্থমূলক মামলাটি দায়ের করে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে জনতা স্টীল মিল (শীপ ব্রেক্ংি ইয়ার্ড)-এ দুর্ঘটনার ফলে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও এই ইয়ার্ডের স্বপক্ষে পরিবশগত ছাড়পত্র নবায়নের বিরুদ্ধেও বেলা আদালতে প্রতিকার চেয়েছে।
বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেছেন সিনিয়র আইনজীবী জনাব ফিদা এম কামাল এবং তাঁকে সহায়তা করেন বেলার আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও সাঈদ আহমেদ কবীর।
আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন-

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
প্রধান নির্বাহী, বেলা।
তারিখ: ৮ জুন, ২০১৭
মোবাইল: ০১৭১১৫২৬০৬৬

 

 

 

 

 

আজ (১৭ মে, ২০১৭) বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) বিদ্যমান The Ship Breaking & Recycling Rule, 2011 এবং বিপজ্জনক বর্জ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১১-এর দ্বৈততা পরিহার করে এবং এই দুটি বিধিমালাসহ আমদানী নীতি আদেশ ২০১৫-২০১৮ এ জাহাজ আমদানী, বিচিং, ভাঙা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আদালতের নির্দেশের সাথে সামঞ্জস্যতা আনয়নে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়নের দাবিতে আইনী নোটিশ প্রেরণ করেছে। একইসাথে এ নোটিশের মাধ্যমে বেলা কর্তৃক আদালতের আদেশ ও বিদ্যমান বিধিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে আমদানীকৃত বর্জ্যবাহী নর্থ সি প্রডিউসার (বর্তমান নাম এমটি প্রডিউসার) নামক জাহাজটিতে বিদ্যমান তেজষ্ক্রিয়তাযুক্ত পদার্থের পরিমাণ নির্ধারণ ও তার নিরাপদ অপসারণে অবিলম্বে নিরপেক্ষ এবং বিদেশী বিশেষজ্ঞ নিয়োগ এবং (৩) জাহাজটির স্বপক্ষে ঘঙঈ, বিচিং অনুমোদন ও ভাঙার অনুমোদন প্রদানকারী কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিশ গ্রহীতাগণ হলেন- সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়; সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়; সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন; মহাপরিচালক, কোস্ট গার্ড; প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক, বিস্ফোরক অধিদপ্তর; মহাপরিদর্শক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর; জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম; কালেক্টর অব কাস্টমস্, বাংলাদেশ কাস্টমস; চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ; পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; প্রিন্সিপাল অফিসার, মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট; ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেসার্স এইচ আর শীপ ম্যানেজমেন্ট লিঃ (সেইফটি এজেন্সি), সভাপতি, বাংলাদেশ শীপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশন, স্বত্তাধিকারী, জনতা স্টীল কর্পোরেশন (শীপব্রেকিং ইয়ার্ড)।
উল্লেখ্য, দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের আদেশ অমান্য করে জনতা স্টীল কর্পোরেশন (শীপব্রেকিং ইয়ার্ড) তেজষ্ক্রিয়তাযুক্ত বিষাক্ত বর্জ্যবাহী নর্থ সি প্রডিউসার(বর্তমান নাম এমটি প্রডিউসার, আইএমও নম্বর ৮১২৪০৫৮) নামক একটি জাহাজ আমদানী করে এবং ভাঙার কার্যক্রম শুরু করে। প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে আমদানীকৃত এ জাহাজটিতে তেজষ্ক্রিয়তাযুক্ত বর্জ্যসহ অন্যান্য ক্ষতিকর বর্জ্য থাকা সত্তেͦও মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ লংঘন করে ও দেশের বিদ্যমান আইনী বিধি-বিধান উপেক্ষা করে জাহাজটি আমদানীর স্বপক্ষে ঘঙঈ (ঘড় ঙনলবপঃরড়হ ঈবৎঃরভরপধঃব), বিচিং ও ভাঙার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায় দেশের ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কাস্টম্স এর মেগাপোর্ট ইনিসিয়েটিভ কর্তৃপক্ষ এ জাহাজটিতে বিদ্যমান তেজষ্ক্রিয় বর্জ্যের পরিমাণ নির্ধারণে ও তা অপসারণে বিদেশী বিশেষজ্ঞের শরনাপন্ন হতে সুপারিশ প্রদান করেছে।

ইতোপূর্বে বেলা কর্তৃক দায়েরকৃত এক জনস্বার্থমূলক মামলায় (নং ৭২৬০/২০০৮) গত ৫ ও ১৭ মার্চ, ২০০৯ তারিখে প্রদত্ত আদালতের নির্দেশের প্রেক্ষিতে ঞযব ঝযরঢ় ইৎবধশরহম ্ জবপুপষরহম জঁষব, ২০১১ এবং বিপজ্জনক বর্জ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১১ শীর্ষক দুইটি সাংঘর্ষিক এবং দুর্বল বিধিমালা প্রণীত হয় যা জাহাজ আমদানী, ভাঙা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আদালতের আদেশের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একইসাথে আমদানী নীতি আদেশ, ২০১৫-২০১৮-এর অনুচ্ছেদ ২৬(খ) (৩৯) জাহাজ আমদানী সংক্রান্ত আদালতের আদেশের সাথে সাংঘর্ষিক। মূলত এ সকল সাংঘর্ষিক বিধি বিধানের কারণে নর্থ সি প্রডিউসার(বর্তমান নাম এমটি প্রডিউসার)-এর মতো বিষাক্ত বর্জ্যবাহী জাহাজ হরহামেশাই দেশে প্রবেশ করছে এবং উপকূলীয় পরিবেশ এবং শ্রমিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মারাত্মকভাবে বিঘিত হচ্ছে।

আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন-

এ এম এম মামুন
বেলা।
তারিখ: ১৭ মে, ২০১৭
মোবাইল: ০১৯১৯৮০৪০০০

Real News :