খেলার মাঠ রক্ষায় হাইকোর্টের রুল ও অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা

বনানী রোড নং-২৩/এ, বøক-বি, প্লট নং-১ এ বনানী আবাসিক এলাকায় অবস্থিত বনানী বিদ্যা নিকেতন নামক প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ হিসেবে বরাদ্দ প্রাপ্ত জমিতে রাজউকের অনুমোদন বিহীন নির্মাণ কাজ বন্ধ ঘোষণা করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। পাশাপাশি ১১ নং বিবাদীর (সভাপতি, বনানী  বিদ্যানিকেতন  স্কুল এÐ কলেজ)  খেলার মাঠের স্থানে নির্মাণ কাজকে কেন বিবাদীগণের ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হবেনা সে মর্মে রুল জারি করেছেন। একইসাথে ৫নং (চেয়ারম্যান, রাজউক) ও ১১ নং বিবাদীকে (সভাপতি, বনানী  বিদ্যানিকেতন  স্কুল এÐ কলেজ) তাৎক্ষণিকভাবে এ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে উক্ত মাঠটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার আদেশ প্রদান করেন।  সেইসাথে আগামী ২২ আগস্ট, ২০১৯ তারিখে ৫নং ও ১১ নং বিবাদীকে আদালতের নির্দেশ প্রতিপালন করে এফিডেভিট আদালতে জমা প্রদান করতে নির্দেশ প্রদান করেন এবং এই বিষয়ে আদেশ প্রদানের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট, ২০১৯ তারিখ দিন ধার্য করেন। আজ (২৮ জুলাই, ২০১৯) বিচারপতি জনাব মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জনাব আশরাফুল কামাল-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত এক জনস্বার্থমূলক মামলার (নং-৮৩০৭/২০১৯) প্রাথমিক শুনানী অন্তে এ রুল ও নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

উল্লেখ্য ঢাকা মহানগরীর বনানী আবাসিক এলাকার রোড নং ২৩/এ, বøক বি-এর বরাদ্দ প্রাপ্ত তিনটি প্লটে “বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল এÐ কলেজ” নামক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে লে আউট প্ল্যানে ১নং প্লটটি খেলার মাঠ হিসেবে চিহ্নিত যা দীর্ঘ সময় ধরে শিশুদের খেলার মাঠ এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রাত:ভ্রমণের স্থান হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। অতি সম্প্রতি বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল এÐ কলেজ কর্তৃপক্ষ খেলার মাঠ হিসেবে চিহ্নিত ১নং প্লটে স্থাপনা নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে। এলাকাবাসীর খেলার মাঠটি রক্ষার দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করে। সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে যথাযথ প্রতিকার না পেয়ে এলাকাবাসী বেলা বরাবর আইনগত সহায়তা চেয়ে আবেদন করলে বেলা অত্র মামলাটি দায়ের করে।

বেলা‘র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট রিজওয়ানা হাসান এবং তাকে সহায়তা করেন এ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ কবীর।

মামলার বাদীগণ- সচিব, গৃহায়ন ও গণপ‚র্ত মন্ত্রণালয়; সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়; মেয়র, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (উত্তর); মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; চেয়ারম্যান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ; পুলিশ কমিশনার, ঢাকা মেট্টোপলিটন এরিয়া; পরিচালক, জোন-৫, রাজউক; অথরাইজড  অফিসার, জোন ৪/১, রাজউক মহাখালী জোনাল অফিস; উপ- পরিচালক, রাজউক এস্টেষ্ট ও ভুমি-১, রাজউক; ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বনানী থানা; সভাপতি, বনানী  বিদ্যানিকেতন  স্কুল এÐ কলেজ।

আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:

সাঈদ আহমেদ কবীর

আইনজীবী, বেলা।

মোবাইল: ০১৭১১২০৮০৮১ তারিখঃ ২৮ জুলাই, ২০১৯

প্লট বরাদ্দে অনিয়মঃ পূর্বাচল বিষয়ে রাজউকের বোর্ড সভাগুলোর অনুলিপি চেয়েছে হাইকোর্ট

৭টি পরিবেশবাদী, নগর পরিকল্পনা ও মানবাধিকার সংগঠনের দায়েরকৃত এক জনস্বার্থমূলক মামলায় ১৩ মার্চ, ২০১৪ তারিখে হাইকোর্ট এক রায়ের মাধ্যমে পূর্বাচল প্রকল্পের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর দাখিলকৃত চতুর্থ সংশোধনী প্ল্যান চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেন। প্রদত্ত রায়ে হাইকোর্ট এই মর্মে নির্দেশ দেন যে আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে রায়ের মাধ্যমে অনুমোদিত চতুর্থ সংশোধিত প্ল্যানে চিহ্নিত বন, লেক, খাল, পার্ক, খেলার মাঠ ও উদ্যান, সবুজ বেষ্টনী ও নগরায়নের জন্য করা সবুজ আচ্ছাদনে কোন পরিবর্তন আনবেনা রাজউক। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে হাইকোর্টের অনুমোদিত চতুর্থ সংশোধিত প্ল্যানের ব্যতয় ঘটিয়ে নতুন প্লট সৃষ্টির জন্য পঞ্চম সংশোধনী প্ল্যান অনুমোদনের জন্য আদালতে আবেদন করে রাজউক। রাজউকের প্রদত্ত পঞ্চম সংশোধনী প্ল্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে ৩টি (১০০ তলা বিশিষ্ট ভবন, রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো এবং রাজউকের কেন্দ্রীয় স্ট্যাকইয়ার্ড ) নতুন স্থাপনার জন্য পূর্বাচলের চতুর্থ সংশোধিত প্ল্যানে ২১ রকম ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রায় ২০টিতেই পরিবর্তন আনার প্রস্তার করা হয়েছে। উদ্বেগজনকভাবে, চতুর্থ সংশোধিত প্ল্যানে চিহ্নিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে খেলার মাঠ (প্রায় ১৪০ একর ) সরিয়ে নিয়ে তা অন্যত্র বরাদ্দ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল রাজউকের প্রস্তাবিত পঞ্চম সংশোধনী প্ল্যানে।
১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে মহামান্য হাইকোর্ট রাজউকের এমন সুচতুর প্রস্তাবনা সমন্বিত পঞ্চম সংশোধনী প্ল্যান কার্যত বাতিল করে দেন এবং ৩টি প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে কেবলমাত্র ১০০তলা ভবনের অনুমোদন দেয়া যেতে পারে মর্মে আদেশ দেন। আদালতের আদেশে এটি স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয় যে চতুর্থ সংশোধনীতে যেখানে বাণিজ্যিক এলাকা দেখানো আছে কেবলমাত্র সেখানেই এ ১০০ তলা ভবনের জন্য অনুমোদন দেয়া যেতে পারে। তবে খেলার মাঠ, সবুজ বেষ্টনী, জলাশয়সহ অন্য ২০টির ভূমি ব্যবহারে কোন পরিবর্তন আনা যাবে না।
১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে প্রদত্ত হাইকোর্টের আদেশের পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় যে রাজউক ২০১৭ সালের ২০ জুন, ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি এবং ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি পূর্বাচল প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে উন্মুক্ত স্থান, খেলার মাঠ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বনের জায়গা কমিয়ে নতুন প্লট তৈরির অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে এবং আদালতের অনুমোদিত প্ল্যানে ব্যতয় ঘটিয়ে ৮৪টি প্লটও বরাদ্দ দিয়েছে। গণমাধ্যমে খেলার মাঠের জন্য নির্ধারিত জায়গা সংকুচিত করার সংবাদের সাথে পঞ্চম সংশোধনী প্ল্যান-এর স্বপক্ষে আদালতে প্রদত্ত রাজউকের প্রস্তাবনার সামঞ্জস্যের প্রেক্ষিতে বেলা’সহ রীট আবেদনকারী সংগঠনসমূহ আদালতে নতুন আবেদন দায়ের করে।
আবেদনের শুনানী শেষে বিচারপতি জনাব মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জনাব মোঃ আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আজ রাজউককে (১) ১৩ মার্চ, ২০১৪-এ প্রদত্ত রায়ের পর অদ্যাবধি পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প বিষয়ে রাজউকের সকল বোর্ড সভাগুলোর অনুলিপি (২) বন, উন্মুক্ত স্থান, খেলার মাঠ, পার্ক, জলাশয় ইত্যাদি সুস্পষ্টভাবে প্রদর্শন করে চতুর্থ সংশোধিত লেআউট প্ল্যান এবং প্রস্তাবিত পঞ্চম সংশোধিত লেআউট প্ল্যান আদালতে ৩০ শে জুন, ২০১৯ এর মধ্যে জমা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। আবেদনটির পুনঃ শুনানী হবে ৪ জুলাই, ২০১৯ তারিখে ।
আবেদনকারী সংস্থগুলো (আইন ও সালিশ কেন্দ্র, এএলআরডি, বেলা, বাপা, আইএবি, পবা, নিজেরা করি)-এর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও সাঈদ আহমেদ কবীর। রাজউকের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জনাব তানজিব-উল-আলম,বার-এট-ল’।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:
সাঈদ আহমেদ কবীর
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইল: ০১৭১১২০৮০৮১
তারিখ : ২২ মে, ২০১৯।

আজ ১৯ মে, ২০১৪ তারিখে বরিশাল জেলাধীন বানারীপাড়া উপজেলাধীন সন্ধ্যা নদী রক্ষার দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। সন্ধ্যা নদী বা নদীটির তীরবর্তী অঞ্চলে পরিচালিত নদী বিরুদ্ধ সকল কার্যক্রম বন্ধ, ফোরশোরে স্থাপিত সকল স্থাপনা অপসারণ, দখলমুক্তকরণ ও সিএস নকশা ও প্রাথমিক প্রবাহ অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণপূর্বক নদীটি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়ে  বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, ভূমি, পরিবেশ ও বন, পানি সম্পদ, নৌ পরিবহণ, মৎস্য ও পশুসম্পদ  মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, বরিশালের জেলা প্রশাসক, বানারীপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক  বরাবর নোটিশটি প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে সম্প্রতি বানারীপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্ধ্যানদীর ৩ একর জায়গা জুড়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন এবং প্রকল্পটির একটি সাইনবোর্ডও ইতোমধ্যে নদীটির মাঝখানে টানানো হয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশিত সচিত্র প্রতিবেদন অনুযায়ী সন্ধ্যা নদীর বক্ষে সিনিয়র সিটিজেন’স পার্ক, অবসর কেন্দ্র, রেস্ট হাউজ, ফুডকর্নার, মসজিদ ও মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং অতিশীঘ্রই প্রকল্প বাস্তবায়নের নিমিত্তে কাজ শুরু হবে। নদী সংরক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের এহেন কার্যক্রম অনভিপ্রেত ও দায়িত্বে স্পষ্ট অবহেলা। একইসাথে এ ধরনের কার্যক্রম নদী ভরাাটকে অধিক উৎসাহিত করবে এবং সেইসাথে নদীর নাব্যতাসহ এর গতিপথ পরিবর্তন করবে। ফলশ্রুতিতে অনেকগুন বেড়ে যাবে নদী ভাঙনের ঝুঁকি, ধ্বংস হবে জনপদ, ক্ষতিগ্রস্ত হবে জীববৈচিত্র্য। সন্ধ্যা নদী ভরাট ও দখলরোধে এবং প্রতিবেশ ও পরিবেশ তথা জাতীয় সম্পদ রক্ষার স্বার্থেই  সংগঠনটি এ নোটিশ প্রেরণ করেছে।

আরো তথ্যের জন্য
মো: ইকবাল কবির
আইনজীবী, বেলা
০১৭১১৫৬৭৪৮০

Real News :