কক্সবাজার সদর উপজেলাধীন ঝিলংজা মৌজার পাহাড় ও টিলা অধিগ্রহণ করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বন্ধ ঘোষণা করেছে আপীল বিভাগ

কক্সবাজার সদর উপজেলাধীন ঝিলংজা মৌজার পাহাড় ও টিলা অধিগ্রহণ করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বন্ধ ঘোষণা করেছে আপীল বিভাগ । আজ (৭ এপ্রিল, ২০১৯) বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত মামলার শুনানী শেষে মাননীয় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি জনাব হাসান ফয়েজ সিদ্দীকী, বিচারপতি জনাব জিনাত আরা এবং বিচারপতি জনাব নূরুজ্জামান-এর সমন্বয়ে গঠিত আপীল বিভাগ এ নির্দেশ প্রদান করে নিয়মিত আপীল করার অনুমতি দেন।
উল্লেখ্য যে, কক্সবাজার সদর উপজেলাধীন ঝিলংজা মৌজার খতিয়ান নম্বর-১, জে.এল নম্বর-১৭, বি.এস দাগ নম্বর-১৭০৩০/৩৭৬৪৪, ১৭০৩০/৩১৮৯৪, ১৭০৩০/৩৭৬৪৩ এবং ১৭০৩০ দাগে অবস্থিত ৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, কক্সবাজারে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসন ও অন্যান্য কাঠামো নির্মাণের জন্য প্রস্তাব দিলে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এল. এ. কেসের (নং ১/২০১৪, ১/২০১৫) মাধ্যমে উক্ত জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করলে এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) মামলাটি (নং-৯০৯৪/২০১৫) দায়ের করে। ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি জনাব মির্জা হোসেন হায়দার ও বিচারপতি জনাব আ.ক.ম জাহিরুল হক-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টর ডিভিশন বেঞ্চ উল্লেখিত দাগে অবস্থিত পাহাড় ও টিলা রক্ষায় বিবাদীদের ব্যর্থতাকে কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারি করেন। পাশাপাশি রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উক্ত জমি অধিগ্রহণের জন্য এলএ কেস নং ১/২০১৪, ১/২০১৫ এর কার্যকারিতা স্থগিত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এফিডেভিট ইন অপোজিশন আদালতে দাখিল করে বিকল্প জায়গায় তাদের স্থন নির্ধারণ করার আবেদন করলেও, গত ৫ এপ্রিল, ২০১৮ তারিখে বিচারপতি জনাব নাঈমা হায়দার এবং বিচারপতি জনাব জাফর আহমেদ-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ কক্সবাজার সদর উপজেলাধীন ঝিলংজা মৌজার খতিয়ান নম্বর-১, জে.এল নম্বর-১৭, বি.এস দাগ নম্বর-১৭০৩০/৩৭৬৪৪, ১৭০৩০/৩১৮৯৪, ১৭০৩০/৩৭৬৪৩ এবং ১৭০৩০ দাগের জন্য এল এ কেস চলমান রেখে পরিবেশ অধিদপ্তরকে একটি কমিটি গঠন করে অধিকৃত জমিতে স্থপনা নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়টিকে তদারকি করতে আদেশ দেন যাতে করে কোনরূপ বন উজাড় বা পাহাড় কাটা না যায়। আদালত আরো নির্দেশ প্রদান করেন যে, যদি পরিবেশ অধিদপ্তরের নিকট এ নির্মাণ কাজ অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজন বলে প্রতীয়মান হয় তবে এ সংক্রান্ত আইন ও বিধি পর্যালোচনা করে সঠিক বলে বিবেচিত হলে অনুমতি দিতে পারে সেক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণপূর্বক উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে অধিগ্রহণকৃত জায়গাতে অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি প্রদান করতে পারে। কিন্তু উক্ত অধিগ্রহণ মামলার তফসিলে দেখা যায় অধিগ্রহণের প্রস্তাবকৃত জমির পরিমাণ সর্বমোট ৪ একর যার মধ্যে ৩.৯৮ একর জায়গা পাহাড় বা টিলা এবং উক্ত জমির জন্য এল এ কেস নং ১/২০১৪, ১/২০১৫- তে কক্সবাজার ঝিলংজা মৌজায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ৪ একর ভূমি অধিগ্রহণের নিমিত্তে ক্ষতিপূরণ ও আনুসঙ্গিক বাবদ প্রক্কলিত মূল্য ৩২,৯৪,৩৮০০২/৬৮ টাকা। ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রাখায় হাইকোর্টের এ রায়ে সংক্ষুবদ্ধ হয়ে বেলা প্রথমে সিএমপি (নং-৪০৯/২০১৮) ও পরে সিপি (নং-৭৪/২০১৯) দায়ের করে। গত ৩১ মার্চ, ২০১৯ তারিখে শুনানী শেষে আজ আদালত এ আদেশ প্রদান করেন।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এর ওহংঃধষষধঃরড়হ ড়ভ ঝরহমষব চড়রহঃ গড়ড়ৎরহম প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার বন অধিদপ্তরের নামে রেকর্ডকৃত ১৯০.৯৫৬ একর সংরক্ষিত বনভূমি ব্যবহারের জন্য বনজসম্পদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ১,৩৬,৭৪,৯৪৯.১০ টাকা বিপিসি কর্তৃক পরিশোধিত হয়েছে। সেখানে একই জেলার মাত্র ৪ একর ভূমির মূল্য ৩২,৯৪,৩৮০০২/৬৮ টাকা অস্বাভাবিক বটে। তাছাড়া এ মামলায় অতিরিক্ত পক্ষভুক্ত হয়ে আবেদনকারী মোঃ জামাল উদ্দিন খান ও মোঃ জিয়াউল হায়দার হাশমী তাদের দাবিকৃত অংশের মূল মালিক নন। তারা ভূমিহীন ব্যক্তিদের চাষাবাদের জন্য সরকারি কৃষি জমি বিনা সালামীতে এবং বিনা খাজনায় বন্দোবস্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিদের নিকট থেকে পাওয়ার অব এ্যাটর্নীর মাধ্যমে মালিকানাস্বত্ব অর্জন করেন।

মামলার বিবাদীগণ ছিলেন সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়; সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়; মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড; জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার; পুলিশ সুপার, কক্সবাজার; উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কক্সবাজার সদর উপজেলা; নির্বাহী প্রকৌশলী, বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ, কক্সবাজার; সহকারী পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর (কক্সবাজার জেলা কার্যালয়); মেয়র, কক্সবাজার পৌরসভা; সহকারী কমিশনার (ভূমি), কক্সবাজার সদর; ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, কক্সবাজার সদর; মোঃ জামাল উদ্দিন খান, পিতা- গ্রাম: বকশির ঘাটিছড়া, থানা: মঠবাড়িয়া, জেলা: পিরোজপুর ও মোঃ জিয়াউল হায়দার হাশমী, গ্রাম: খালিশাতলা সান উদ্দিন হাজি বাড়ি, থানা: নোয়াখালী সদর, জেলা: নোয়াখালী।

বেলা’র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সিনিয়র আইন আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সিনিয়র আইজীবী এ এম এম আমিনউদ্দীন ও আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বিবাদী পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী জনাব মাহবুবে আলম।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন

সাঈদ আহমেদ কবীর
আইনজীবী, বেলা।
ফোন: ০১৭১১২০৮০৮১
৭ এপ্রিল, ২০১৯

বনভূমিতে উন্নয়ন প্রকল্প নয়- হাইকোর্টের নির্দেশনা

বনভূমিতে উন্নয়ন প্রবনভূমি, বন ও বৃক্ষ আচ্ছাদিত অঞ্চল-এর বিরুদ্ধ ব্যবহার রোধ করতে না পারা কেন বেআইনী, আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত এবং বাংলাদেশের সংবিধান ও দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না সে মর্মে আজ (১১ মার্চ, ২০১৯) সরকারের ২০টি প্রতিষ্ঠানের উপর কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি জনাব শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি জনাব রাজিক আল জালিল-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত মামলার (নং- ২৫৬৪/২০১৯) প্রাথমিক শুনানী অন্তে নির্দেশ জারি করেন। একইসাথে সংগতিপূর্ণ আইন প্রণয়ন, নিরপেক্ষ ও অর্থবহ পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিরুপণ, যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান ও বনভূমির বিকল্প বনায়ন নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত। উল্লেখ্য বিগত এক বছরে অন্তঃত ৪টি ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানের সংরক্ষিত, প্রাকৃতিক ও সৃজনকৃত বন রুপান্তরের সিদ্ধান্ত দিয়েছে মন্ত্রী পরিষদ এবং বন বিভাগ। ফলে দেশের বিদ্যামন ১৩% বনভূমি আরো সংকুচিত হচ্ছে যেকানে সরকারির প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী দেশে বনভূমির পরিমাণ থাকতে হবে ২০%। বন বিধ্বংসী এমন সিদ্ধান্ত পরিবেশ রক্ষায় সরকারের সাংবিধানিক প্রতিশ্রæতি ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র অর্জনকে ব্যহত করছে বলে বাদী আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। প্রায় সকল ক্ষেত্রেই পরিবেশগত প্রভাব নিরূপন ছাড়া, এবং “দ্বিগুণ গাছ লাগাতে হবে” এমন শর্তে মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক বিপুল পরিমাণ গাছ কাটার অনুমতি দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে পরিবেশগত প্রভাব নিরুপণ ছাড়াই মন্ত্রী পরিষদ/বন বিভাগ মহেশখালী, কক্সবাজার-১৯১.২৫ একর প্রাকৃতিক সংরক্ষিত বন কেটে তেলের ডিপো নির্মাণ; মানিকগঞ্জ, সিঙ্গাইর, হেমায়েতপুর সড়কের গাছ কেটে রাস্তা সম্প্রসারণ; চাঁদপুর ইউনিয়ন, কাপাশিয়া, গাজীপুর প্রাকৃতিক সংরক্ষিত বন কেটে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং গাজীপুর সংরক্ষিত গজারি বন কেটে গ্যাস পাইপ লাইন বসানোর অনুমোদন প্রদান করেছে ও এসব ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে দুইগুণ গাছ “ক্ষতিপূরণ বনায়ন” হিসেবে রোপিত হবে বলে মন্ত্রী পরিষদে সিদ্ধান্ত হলেও তা কোন ক্ষেত্রেই বাস্তবায়িত হয়নি যা বন্যপ্রাণি ও পরিবেশের ভারসাম্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। বন উজাড়ে অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে সরকার ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে কোন সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি, যেমন-মহেশখালীতে ১৯১.২৫ একর বিরল পাহাড়ী প্রাকৃতিক বনের ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে কেবল ১,৩৬,৭৪,৯৮৯.১০ টাকা। যদিও একই সময়ে গাজীপুরে ৪.৫৫৫ একর বনভূমির বিপরীতে ক্ষতিপূরণ ধরা হয়েছে ১৬,৬৪,৯৫,৬৫৯.৯৭ কোটি টাকা। মহেশখালীর ক্ষেত্রে বন বিভাগ ২৭৭ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাইলেও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশ প্রদান করেছে মাত্র ১,৩৬,৭৪,৯৮৯.১০ টাকা । এমন প্রেক্ষিতে বেলা উন্নয়নের নামে বনভূমির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট ও সামঞ্জস্যপূর্ণ আইনী কাঠামো দাবি করে জনস্বার্থে মামলাটি দায়ের করে। আদালত সকল বনভূমিতে “ক্ষতিপূরণ বনায়ন” ছাড়া কোন উন্নয়ন কর্মকাÐ গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। একইসাথে মহেশখালী, কক্সবাজারে প্রাকৃতিক সংরক্ষিত বন কেটে তেলের ডিপো নির্মাণ; মানিকগঞ্জ, সিঙ্গাইর, হেমায়েতপুর সড়কের গাছ কেটে রাস্তা সম্প্রসারণ; চাঁদপুর ইউনিয়ন, কাপাশিয়া, গাজীপুর প্রাকৃতিক সংরক্ষিত বন কেটে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং গাজীপুর সংরক্ষিত গজারি বন কেটে গ্যাস পাইপ লাইন বসানোর ইত্যাদি ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত বনভূমির বিপরীতে “ক্ষতিপূরণ বনায়ন” বাস্তবায়নে আগামী ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে আদালতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বিবাদীগণ-সচিব, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ; সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়; সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; সিনিয়র সচিব, স্থানীয়, সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; সচিব, সড়ক পরিবহণ ও মহা সড়ক বিভাগ, সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়; মন্ত্রণালয়; সচিব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়; সচিব, জ্বালানি খনিজ সম্পদ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়; প্রধান বন সংরক্ষক, বন বিভাগ; মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; প্রধান প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপদ বিভাগ; জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জ; জেলা প্রশাসক, গাজীপুর; জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার; বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, ঢাকা বন বিভাগ; বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, উপকূলীয় বন বিভাগ, কক্সবাজার; ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড; চেয়ারম্যান,বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন; পুলিশ সুপার, কক্সবাজার; পুলিশ সুপার, গাজীপুর; পুলিশ সুপার, মানিকগঞ্জ। বেলা‘র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও এ্যাডভোকেট আলী মুস্তাফা খান। আরো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন: এ্যাডভোকেট আলী মুস্তাফা খান আইনজীবী, বেলা। মোবাইল: ০১৯৭৯১৪৬৬৯৩ তারিখঃ ১১ মার্চ, ২০১৯ কল্প নয়- হাইকোর্টের নির্দেশনা

সিলেটে অবৈধভাবে পরিচালিত স্টোন ক্রাশার মেশিনের কার্যক্রম বন্ধে আদালতের নির্দেশ

সিলেট জেলার অন্তর্গত সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ ব্যতীত অবৈধ এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত সকল স্টোন ক্রাশার মেশিনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসক, সিলেট; পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিভাগীয় কার্যালয় (সিলেট); উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, (সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলা)- কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত রীট আবেদন (রীট পিটিশন নং ৭৫৫২/২০১৫)-এর শুনানী শেষে (আজ ২৬ জানুযারি, ২০১৬) মহামান্য সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় প্রদান করেন।

সিলেট জেলার অন্তর্গত সদর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৬০৬টি স্টোনক্রাশার মেশিন তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল যার মধ্যে ৩৯৩টির পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই এবং হালনাগাদ নবায়নকৃত মেশিনের সংখ্যা ১০টি। এ মেশিনগুলোর কারণে স্থানীয় জনগণ মারাত্মক পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছে, বেশকটি স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং ধ্বংস হয়ে গেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বিভিন্ন স্থানে অবৈধ এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত স্টোন ক্রাশার মেশিনের কার্যক্রম বন্ধ করতে এবং যথাযথ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ সাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য স্থানে স্থানান্তর করতে বেলা এই মামলা দায়ের করে। মামলার প্রাথমিক শুনানী শেষে গত ০৩ আগষ্ট, ২০১৫ তারিখে আদালত অবৈধ, অনিয়ন্ত্রিত এবং অননুমোদিতভাবে স্থাপিত ও পরিচালিত স্টোন ক্রাশার মেশিনকে কেন আইন বর্হিভূত ঘোষণা করা হবে না তার কারণ দর্শাতে বিবাদীদের উপর রুলনিশি জারি করেন। উক্ত রুলের জবাব না দেওয়ায় এবং মেশিনগুলো তাদের কার্যক্রম অব্যহত রাখায় মাননীয় বিচারপতি জনাব মো: আশফাকুল ইসলাম এবং জনাব বিচারপতি জাফর আহমেদ-এর সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ আজ এ রায় প্রদান করেন।

বেলা’র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাড্ভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী।
বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:

এ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইল: ০১৭১১৫৭১১৩২

Real News :